শুক্রবার   ৩০ জুলাই ২০২১   শ্রাবণ ১৪ ১৪২৮   ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

 ফরিদপুর প্রতিদিন
সর্বশেষ:
দখলদার উচ্ছেদ, এবার দেশের সকল নদীতে নামফলক বসাবে সরকার টিকা নেয়ার সর্বনিম্ন বয়স কমিয়ে ২৫ বছর নির্ধারণ সড়কে আন্ডারপাস, ওভারপাস ও ইউলুপ নির্মাণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর প্রথমবারেই আড়াই কোটি টাকা ভ্যাট দিলো ফেসবুক
৪৫

‘জিনে সম্পদ দেবে’ প্রলোভনে খালা ও ভাগনিকে ধর্ষণ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২১  

রাজবাড়ী জেলায় ঘটেছে এমন এক ঘটনা। পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা এনে দেয়ার কথা বলে খালা ও ভাগনিকে ধর্ষণ করেছে ভণ্ড ফকির। জিনের মাধ্যমে সম্পদ আনবে বলে ছিলেন ওই ফকির।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের বিচারক পাংশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন পেশ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে।

অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম সবুর মণ্ডল ওরফে সবুজ (৪০)। তিনি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হোসেনডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর তিনি পলাতক আছেন।

আর ভুক্তভোগী খালার বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার খোকসায়। ভাগনির বাড়ি ভণ্ড ফকিরের গ্রামেই।

মামলাগুলোর আরজিতে বলা হয়েছে, সবুরের কাছে জিন আসে। জিনের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে দিতে পারেন বলে এলাকায় প্রচার আছে। জিনের মাধ্যমে সংসারের অভাবও দূর করতে জিন হাজির করানোর কথা বলেন। কয়েক দিন আগে জিন হাজির করানোর জন্য ওই ব্যক্তির মেয়ে ও শ্যালিকাকে রাতে নির্জন ঘরে নিয়ে একাধিকবার তাদের ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে শ্যালিকা ভগ্নিপতির কাছে বিষয়টি খুলে বলেন।

ধর্ষণের শিকার খালা কয়েক দিন আগে সে বোনের বাড়িতে বেড়াতে আসে। ১ জুন রাতে সবুর তার ভগ্নিপতির বাড়িতে আসেন। এ সময় প্রথমে তিনি তার ভাগনি ও পরে তার সঙ্গে একাকী কথা বলেন। কথা বলার একপর্যায়ে সবুর তার এক হাত ধরে দোয়া পড়ে চলে যান। রাতেই সবুর তাকে ফোন করে জিন হাজির করানোর জন্য বাড়িতে যেতে বলা হয়। সে তার ভগ্নিপতির সঙ্গে সবুরের বাড়ি যায়। এ সময় তার ভগ্নিপতিকে বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে বলা হয়।

তখন নামাজ পড়ে ভেতরে আসেন সবুর। এ সময় সালাম দিয়ে নিজেকে জিন হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি আমাকে বলেন, জিনের ইচ্ছা পূরণ করতে হবে। নইলে তুই একেবারে পুড়ে মরবি। তোর বোন ও দুলাভাইয়ের বড় ক্ষতি হবে। এরপর সবুর আমার হাত ও মুখ বেঁধে ফেলেন। 

এ ছাড়া শেষের দিন (১০ জুন) সবুর আমার ভাগনি ও আমাকে ধর্ষণ করেন। আমি ভয়ে কাউকে প্রথমে এসব কথা কাউকে বলিনি। কিন্তু পরে বোনের চাপাচাপিতে ধর্ষণের বিষয়টি ভগ্নিপতিকে বলি।

স্থানীয় কয়েকজন বলেন, সবুর দুই সন্তানের জনক। বাড়িতে তার একটি মুদিদোকান আছে। তিনি কবিরাজি করেন। মানুষকে ঝাড়ফুঁক দেন।

খালা ও ভাগনিকে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য সবুর মণ্ডলের মুঠোফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। 

পাংশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, আমি কিছুক্ষণ আগে এখানে যোগদান করেছি। বিষয়টি জানি না। কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর আইনগত পদক্ষেপ নেয়া যাবে।

 ফরিদপুর প্রতিদিন
 ফরিদপুর প্রতিদিন
এই বিভাগের আরো খবর