রোববার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১   আশ্বিন ১১ ১৪২৮   ১৮ সফর ১৪৪৩

 ফরিদপুর প্রতিদিন
সর্বশেষ:
২০২৪ সালের মধ্যে চালু হবে দেশের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক পেলেন দেশের ১৪০ পুলিশ সদস্য বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে জাতিসংঘের মঞ্চে ‘বাংলা ভাষা’বেজে ওঠার দিন আজ জাহাজ রপ্তানিতে সুদিন আসছে বাংলাদেশের
৫৯

ছেলেকে বাঁচাতে আইসিইউ ছেড়ে মাতৃত্বের অনন্য নজির গড়লেন মা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২১  

চট্টগ্রামে জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে মুমূর্ষু ছেলের জন্য আইসিইউ ছেড়ে দিয়ে মাতৃত্বের অনন্য নজির স্থাপন করেছেন ৬৫ বছর বয়সী মা কানন প্রভা পাল। তার আত্মত্যাগের এমন দৃষ্টান্ত দেশজুড়ে আলোচিত হচ্ছে।

করোনা আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামের জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৬৫ বছর বয়সী কানন প্রভা পাল ও তার ছেলে শিমুল পাল (৪৩)।

গত মঙ্গলবার রাতে ছেলে শিমুল পালের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিউতে নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। তখন হাসপাতালে একটিও আইসিইউ বেড খালি ছিল না। মা কানন প্রভা পাল তখন ছেলের জন্য নিজের বেড ছেড়ে দেন। এর কিছুক্ষণ পর তিনি তীব্র শ্বাসকষ্টে মারা যান।

গত ১৫ই জুলাই চট্টগ্রাম শহরের সিএমপি কলোনি এলাকার বাসিন্দা, ৬৫ বছর বয়সী কানন প্রভা পাল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে মহিলা আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হন।

এর কয়েকদিন পর তার ছেলে ৪৩ বছর বয়সী শিমুল পালও করোনায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন একই হাসপাতালের পুরুষ আইসোলেশন ওয়ার্ডে। এরপর মায়ের শারীরিক অবস্থার ক্রমেই অবনতি হতে থাকে।

এক প্রকার সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে ২২ জুলাই কোভিড ইউনিটের তাৎক্ষণিক খালি থাকা একটি নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র- আইসিইউ শয্যায় দ্রুত ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার ২৭শে জুলাই পর্যন্ত তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া এবং আইসিইউ কনসালটেন্ট ডা. রাজদ্বীপ বিশ্বাস এই ঘটনা জানান বিবিসিকে।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা আছে ১৮টি। সংকটাপন্ন রোগীর চাপ বাড়ায় সব শয্যাই গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই একদম পূর্ণ। 

রাজদ্বীপ বিশ্বাস বলেন, ‘কানন প্রভা পাল আইসিইউতে নন-ইনভেসিভ ভেন্টিলেটরের সাপোর্টে থাকলেও তার অবস্থা অনেক ক্রিটিকাল ছিল, কোনো উন্নতি হচ্ছিল না। তার অক্সিজেন স্যাচুরেশন বারবার কমে যাচ্ছিল। পরবর্তীতে ছেলেরও অক্সিজেন কমতে থাকলে তারও আইসিইউ সাপোর্টের দরকার হয়। কিন্তু কোথাও কোনো আইসিইউ (বেড) খালি ছিল না।’

ছেলের অবস্থা খুব খারাপ জানতে পেরে মৃত্যুশয্যায় থাকা মা নিজের আইসিইউ বেড ছেড়ে দিয়ে ছেলেকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য চিকিৎসকদের ইশারা করেন।

পরে মায়ের অনেক অনুরোধের পর তার পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করে জানায়, মাকে সরিয়ে যেন ছেলেকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পরিবারের অনুরোধে এবং তাদের থেকে লিখিত অনুমোদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে মুমূর্ষু মাকে আইসিইউ থেকে বের করে আইসোলেশন সেন্টারে রাখা হয়। আর ওই আইসিইউতে জায়গা দেয়া হয় ছেলেকে।

আইসিইউ থেকে বের করার ঘন্টাখানেকের মধ্যেই মায়ের শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে কয়েকঘণ্টার মাথায় করোনার কাছে হার মেনে মারা যান এই মা।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা আছে ১৮টি। সংকটাপন্ন রোগীর চাপ বাড়ায় সব শয্যাই গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই একদম পূর্ণ বলে তিনি জানান।

 ফরিদপুর প্রতিদিন
 ফরিদপুর প্রতিদিন
এই বিভাগের আরো খবর