রোববার   ২৯ জানুয়ারি ২০২৩   মাঘ ১৬ ১৪২৯   ০৭ রজব ১৪৪৪

 ফরিদপুর প্রতিদিন
সর্বশেষ:
পাকিস্তানের সাবেক মন্ত্রীর মুখে বাংলাদেশের উন্নয়ন শেখ হাসিনা তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করছেন: শামীম ওসমান গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফাইনাল রাউন্ডে ব্রাজিল বিশ্বজুড়ে করোনায় মৃত্যু-শনাক্ত কমেছে
২৭৩০

ফরিদপুরের বোকাইল গ্রাম এখন পলোডাঙ্গা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫ ডিসেম্বর ২০২২  

ফরিদপুর সদরের গেরদা ইউনিয়নের একটি গ্রাম বোকাইল। দেড় শতাধিক পরিবারের বসবাস গ্রামটিতে। গ্রামের সবাই পলো (বাঁশ দিয়ে তৈরি মাছ ধরার উপকরণ) তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। দীর্ঘ প্রায় চার যুগেরও বেশি সময় ধরে গ্রামটিতে চলছে এ পলো তৈরির কাজ। এ কারণে গ্রামের আদি নাম ‘বোকাইল’বদলে পরিচিতি পেয়েছে ‘পলোডাঙ্গা’হিসেবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রামের প্রতিটি পরিবারের শিশু-কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে নারী-পুরুষসহ সবাই পলো তৈরির কাজ করেন। পলোডাঙ্গা গ্রামের পলোর খ্যাতি জেলার গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা এখান থেকে পাইকারি দরে পলো কিনে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেন। তবে শুধু মাছ ধরার কাজেই নয়, হাঁস-মুরগি পালনেও ব্যবহৃদত হয় পলো।

সরেজমিনে দেখা যায়, বোকাইল গ্রামের এমন কোনো বাড়ি নেই যেখানে পলো তৈরি করা হয় না। প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় দেখা মেলে পলো ও পলো তৈরির জিনিসপত্র। বাঁশের শলা দিয়ে পলো তৈরির কাজ চলছে। কেউ বাঁশ কাটছেন, কেউ শলা তৈরি করছেন। আবার কেউ প্লাস্টিকের রশি দিয়ে তৈরি করছেন পলো।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিটি পরিবারের তিন থেকে চারজন সদস্য গড়ে প্রতিদিন ৮-১০টি পলো তৈরি করেন। তবে পুরুষদের তুলনায় বাড়ির নারী সদস্যরাই সারাদিন পলো তৈরির কাজে বেশি ব্যস্ত থাকেন। আশপাশের হাট-বাজারে বিক্রি করার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যবসায়ীরা এখান থেকে পাইকারি দামে পলো কিনে নিয়ে যান।

বাজারে প্রকারভেদে প্রতিটি পলো ২০০-৩০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। আর পাইকারি দরে ১৫০-২০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। বড় আকারের একটি বাঁশ কিনতে খরচ পড়ে ৩০০-৪০০ টাকা। প্রতিটি বাঁশ দিয়ে তিন থেকে চারটি পলো তৈরি করা যায়।

বোকাইল গ্রামের বাসিন্দা নাজিমুদ্দিন মোল্লা (৬৭) বক্কার মন্ডল ও ইদ্রিস শেখ ফরিদপুর প্রতিদিনকে বলেন, আমরা বাপ-দাদার আমল থেকে পলো তৈরির কাজে জড়িত। গ্রামের আদি নাম বোকাইল হলেও এখন সবার কাছে মৌখিকভাবে ‘পলোডাঙ্গা’ গ্রাম হিসেবে পরিচিত পেয়েছে। গ্রামের প্রতিটি পরিবারই এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। পলো তৈরি করেই আমাদের সংসার চলে।

গৃহবধূ নারগিস বেগম বলেন, সারাদিন গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি পলো তৈরি করি। এই পলো বিক্রির টাকা দিয়েই চলে আমাদের সংসার।

গ্রামের বাসিন্দা জসিম মাতুব্বর  ফরিদপুর প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি গ্রাম থেকে পাইকারি দরে কিনে বিভিন্ন স্থানে পলো বিক্রি করি। বিভিন্ন স্থান থেকে মহাজনরা এসেও গাড়ি ভরে কিনে নিয়ে যান। গাড়ি ও শ্রমিক খরচ বাদে প্রতিটি পলোতে গড়ে ৬০-৭০ টাকার মতো লাভ হয়।’

গ্রামের আরেক বাসিন্দা হাসেম মোল্লা (৬২)  ফরিদপুর প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি সেই পাকিস্তান আমল থেকে পলো তৈরি করি। বাপ-দাদার পেশা তাই ধরে রেখেছি। কোনোমতে খেয়ে-পরে চলছে।’

স্থানীয় ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শেখ ঝিলু বলেন, গ্রামটির প্রতিটি পরিবার পলো তৈরির সঙ্গে জড়িত। এটাই তাদের জীবিকার মাধ্যম।

গেরদা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফ হোসেন  ফরিদপুর প্রতিদিনকে বলেন, গ্রামটি পলো তৈরির জন্য বিখ্যাত। গ্রামের ৯৫ শতাংশ মানুষ পলো তৈরির কাজে জড়িত। এটা তাদের প্রধান পেশা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ফরিদপুরের উপমহাব্যবস্থাপক হ র ম রফিকউল্লাহ  ফরিদপুর প্রতিদিনকে বলেন, ফরিদপুরের বোকাইল গ্রামের পলো গুণে-মানে বেশ ভালো। এখানকার পলোর খ্যাতি ও চাহিদা রয়েছে। বিসিক সবসময় এসব ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পকে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে। এ কাজে জড়িতদের ভালোমানের পলো তৈরিতে আগ্রহী করার পাশাপাশি কারিগরদের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে।

 ফরিদপুর প্রতিদিন
 ফরিদপুর প্রতিদিন
এই বিভাগের আরো খবর