শুক্রবার   ৩০ জুলাই ২০২১   শ্রাবণ ১৪ ১৪২৮   ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

 ফরিদপুর প্রতিদিন
সর্বশেষ:
দখলদার উচ্ছেদ, এবার দেশের সকল নদীতে নামফলক বসাবে সরকার টিকা নেয়ার সর্বনিম্ন বয়স কমিয়ে ২৫ বছর নির্ধারণ সড়কে আন্ডারপাস, ওভারপাস ও ইউলুপ নির্মাণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর প্রথমবারেই আড়াই কোটি টাকা ভ্যাট দিলো ফেসবুক
১০৫

স্বপ্নের ঠিকানা পেয়ে গৃহহীনদের চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০২১  

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে খুশি উপকারভোগীরা। কয়েকমাস আগেও যারা ভূমিহীন ও গৃহহীন ছিলেন তারা কল্পনাও করেননি যে মুজিববর্ষে পাবেন জমিসহ বাড়ি।

কয়েকশ’ পরিবারের মত এরকমই একজন স্বামী পরিত্যক্তা ফাতেমা বেগম। আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে আবেগাপ্লুত তিনি। ফাতেমা জানান, “দীর্ঘদিন স্বামী আমাকে ছেড়ে আর একজনকে বিয়ে করে খোঁজ খবর রাখে না, বাপেরও জমিজমা নাই। কোনও মত বেঁচে ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী আমারে এট্টা ঘর দিছে, দুই শতক জমি দিছে, মাথা গুজার একটা ঠাঁই পেয়েছি, আমি ভীষণ খুশি, আমি জীবনেও ভাবি নাই আমার একটা ঘর হবে।”

কথা বলতে বলতে ফাতেমার দু’চোখ বেয়ে নেমে আসে আনন্দাশ্রু।
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে নির্মিত প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরগুলোর নির্মাণশৈলী ও গুণগতমান অনুমোদিত ডিজাইন প্রাক্কলন অনুযায়ী হয়েছে কিনা তা দেখার জন্য গণমাধ্যমকর্মীরা সরেজমিনে উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের আরাজী শিবানন্দপুর গেল সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ফাতেমা।

আরেক উপকারভোগী খুশি বেগম। তিনিও স্বামী পরিত্যক্তা, এলাকার বিত্তবানদের বাড়িতে ঝি- এর কাজ করেন, কখনো বা কাঁথা সেলায় করে কোনওমতে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। খুশি বেগমের না ছিল জমি, না ছিল ঘর। পরের ঘরে মানুষের দয়া-দক্ষিণায় যদিও একটু ঠাঁয় মিলেছে কিন্তু তা স্থায়ী হয়নি বেশি দিন।

খুশি বেগম জানান, “আমি জীবনে কল্পনাও করিনি আমার নিজের একটা ঘর হবে, হবে একটি ঠিকানা। সমাজের আর দশজনের মত বলতে পারবো ‘আমার বাড়ি’ যা স্বপ্নেও কোনওদিন ভাবিনি, তা প্রধানমন্ত্রী আমাদের দিয়েছেন। আল্লাহর কাছে দু’হাত তুলে দোয়া করি প্রধানমন্ত্রী যেন ভাল থাকেন, সুস্থ থাকেন।”

একটি জুট মিলে শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। জুট মিলের অন্য নারী শ্রমিকদের সাথে তার বসবাস। জুট মিলের নিকটবর্তী শিবানন্দপুর আশ্রয়ন প্রকল্পে নিঃস্ব ও গৃহহীন অন্যদের মতই একটি ঘর পেয়েছে তিনিও, পেয়েছেন দুই শতক জমি। শেখ হাসিনার জন্য তার একটি আশ্রয় হয়েছে। এতে উচ্ছাসিত জামেলা বেগম।

জামেলা বেগম জানান, “ঘর পেয়েছি, পেয়েছি জমি। প্রধানমন্ত্রী শুধু ঘরই দেননি, বিদ্যুৎও দিয়েছেন, খাওয়ার পানির ব্যবস্থা করেছেন। ঘর করার সময় আমরা প্রতিদিনই দেখভাল করেছি, ঘরের সামনে সামান্য নিচু জমি ছিল সেগুলোও মাটি দিয়ে ভরাট করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আমরা প্রধানমন্ত্রীর এই ঋণ শোধ করবো কীভাবে?। দোয়া করি আল্লাহ শেখ হাসিনার হায়াতদারাজ করুক।” 

ঘরহীন, ভূমিহীন ছিন্নমূল জীবন-যাপন করতেন শহর পরিচ্ছন্নতাকর্মী শাহাদৎ দম্পতি। এই দম্পতি থাকতেন বোয়ালমারী বাজারে এক গণশৌচগারে। শাহাদৎ মনে করতেন তাদের জন্মটাই পাপের বোঝা। কখনো সমাজের বৃত্তবানদের দয়ার পাত্র হয়ে, কখনো বা রাস্তার পাশে কোনওমতে ঝুপড়ি ঘর তুলে আর সর্বশেষ গণশৌচাগারই হয়ে উঠেছিল তাদের বাসস্থান। বাজার পরিচ্ছন্নকর্মী এই দম্পতি স্বপ্নেও কখনো কল্পনা করেনি নিজেদের একটি ঘর হবে, হবে নিজের নামে এক টুকরো জমি। মুজিববর্ষে বোয়ালমারী ইউনিয়নের সৈয়দপুরে আশ্রয়ন প্রকল্পের শাহাদৎ দম্পতি পেয়েছে একটি ঘর। 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘর পেয়ে শাহাদৎ দম্পতি বেশ সুখেই দিনযাপন করছে।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ জানান, “মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী বোয়ালমারীতে গৃহহীন-ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করার লক্ষ্যে নির্মাণ করা হয়েছে দুইকক্ষ বিশিষ্ট ৩১৫টি সেমিপাকা ঘর, যা ইতোমধ্যেই সুবিধাভোগী গৃহহীনদের দুই শতাংশ জমির মালিকানাসহ হস্তান্তর করা হয়েছে। গৃহগুলো নির্মাণশৈলী ও গুণগতমান অনুমোদিত ডিজাইন প্রাক্কলন অনুযায়ী হয়েছে। আমরা কাজগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করেছি। বৈরী আবহাওয়া, অতি বৃষ্টি, করোনাকালীন প্রতিকূল অবস্থায় শ্রমিক সংকট থাকায় গৃহগুলো নির্মাণে একটু বেগ পেতে হয়েছে। কোথাও সমস্যা সৃষ্টি হলে দ্রুত সেসব সমস্যা সমাধান করে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করেই নির্মাণ করা হয়েছে এইসব গৃহ। কয়েকটি প্রকল্পে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা হতে পারে, তাই নির্মাণ করা হয়েছে জলনিষ্কাশন ড্রেন ও গাইড ওয়াল। ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য গৃহনির্মাণ সম্পন্ন করে আমাদের কাজ শেষ হয়ে যায়নি, বরং আগামী দিনগুলোতে এই পরিবারগুলোর পাশে থাকতে বোয়ালমারী উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর।”

 ফরিদপুর প্রতিদিন
 ফরিদপুর প্রতিদিন
এই বিভাগের আরো খবর