মঙ্গলবার   ২৬ জানুয়ারি ২০২১   মাঘ ১২ ১৪২৭   ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

 ফরিদপুর প্রতিদিন
সর্বশেষ:
এসএসসির সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ ট্রাক চাপায় ২ স্কুল ছাত্র নিহত ঘর পাচ্ছেন গণশৌচাগারে বাস করা সেই দম্পতি
২১

স্ত্রীকে ভালোবাসা বিষয়ক ১০টি হাদিস

প্রকাশিত: ৯ জানুয়ারি ২০২১  

উম্মে হাবিবা অ্যানি। অভিনয় থেকে বিদায় নিয়েছেন। এখন ধর্ম-কর্মে মনোনিবেশ করেছেন। কার্যত লকডাউনের সময় ফেসবুক লাইভে এসে পর্দা থেকে বিদায় নেওয়ার কথা জানান। এরপর বিয়ের খবরও জানান। তার কথা অনুযায়ী ঘর-সংসার ও ধর্ম নিয়েই সময় কাটছে অ্যানির। মাঝে-মধ্যে ফেসবুকে নিজের ধর্ম সম্পর্কে যেসব কাজ করেন, সেসব কাজের আপডেট দেন। তারই অংশ হিসেবে এবার জানালেন- নিজের পছন্দের ১০টি হাদিস সংগ্রহ করেছেন। কালের কণ্ঠ

অ্যানি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমার খুব খুব খুব পছন্দের ১০টা হাদিস কালেক্ট করলাম। যখনই পড়ি হাদিসগুলো, আমি যেন কল্পনায় সেই দুজনকে দেখতে পাই। তাঁদের দুজনের ভালোবাসা অতুলনীয়- কতটা ভালোবাসা নিয়ে একই জায়গা থেকে পানি পান করেন, ঝুটা হাড্ডি চিবিয়ে নেন, মিসওয়াক চিবিয়ে দেন। নবীজির মৃত্যুর সময়ের ঘটনা যখন আয়েশা (রা.) বর্ণনা করছিলেন, চোখে পানি ধরে রাখতে পারছিলাম না, ওনার কষ্টটা যেন খুব ফিল করছিলাম। খুব কম বয়সে উনি ওনার হাবিবকে হারিয়েছেন, উনি প্রতিটা মুহূর্ত কতটা মিস করতেন নবীজিকে?’


সাবেক এই অভিনেত্রী বলেন, নবীজির অন্তিম মুহূর্তের কথা ভেবে ওনার খুব কান্না আসত না? নবীজি কতটা ভালোবাসতেন আয়েশা (বা.)-কে – ভরা মজলিসে যখন জিজ্ঞেস করা হলো ওনার সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি কে? উনি বললেন আয়েশা। এই হাদিসের দারসের দিন ম্যাম খুব হেসে বলছিলেন, আজকালকার জামাইরা তো মারাত্মক আয়েব আর কাপুরুষতা মনে করে এই কথা কাউকে বলতে যে আমি আমার বউকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি! অথচ এই শ্রেষ্ঠ মানব একটুও আয়েব মনে করেননি।’

সংগ্রহ করা হাদিসগুলো তুলে ধরেছেন অ্যানি খান- ওনাদের ভালোবাসা প্রত্যেক স্বামী-স্ত্রীর জন্য শিক্ষণীয় ও আদর্শ।

১. আমর ইব্‌নুল আস (রা.) বর্ণনা করেছেন,
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, মানুষের মধ্যে কে আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয়? তিনি বললেন, আয়েশা! আমি বললাম, পুরুষদের মধ্যে কে? তিনি বললেন, তাঁর পিতা (আবু বক্‌র)। আমি জিজ্ঞেস করলাম, অতঃপর কোন লোকটি? তিনি বললেন, ‘ওমর ইব্‌নুল খাত্তাব, অতঃপর আরো কয়েকজনের নাম করলেন।
(সহিহ বুখারি-৩৬৬২)

২. আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন,

তিনি বলেন : নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার কোলে হেলান দিয়ে কোরআন তিলাওয়াত করতেন।
(সহিহ বুখারি-২৯৭)

৩. আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন,
তিনি বলেন, আমি ও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একই পাত্র থেকে গোসল করতাম। সেই পাত্রকে ফারাক বলা হতো। (সহিহ বুখারি- ২৫০)

৪. আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন-
রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ইতিকাফ করতেন, তখন আমার দিকে তাঁর মাথা ঝুঁকিয়ে দিতেন। আমি তা আঁচড়ে দিতাম।
(সহিহ মুসলিম-৫৭১)

৫. আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন-
তিনি বলেন, আমি ঋতুবতী অবস্থায় পানি পান করতাম এবং পরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অবশিষ্টটুকু প্রদান করলে আমি যেখানে মুখ লাগিয়ে পান করতাম, তিনিও পাত্রের সেই স্থানে মুখ লাগিয়ে পান করতেন। আবার আমি ঋতুবতী অবস্থায় হাড় খেয়ে তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দিলে আমি যেখানে মুখ লাগিয়েছিলাম তিনি সেখানে মুখ লাগিয়ে খেতেন।
(সহিহ মুসলিম-৫৭৯)

৬. আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সামনেই আমি পুতুল বানিয়ে খেলতাম। আমার বান্ধবীরাও আমার সঙ্গে খেলা করত। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘরে প্রবেশ করলে তারা দৌড়ে পালাত। তখন তিনি তাদের ডেকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং তারা আমার সঙ্গে খেলত।
(সহিহ বুখারি- ৬১৩০)

৭. আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন,
তিনি এক সফরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করে তাঁর আগে চলে গেলাম। অতঃপর আমি মোটা হয়ে যাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে আবারও দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম, এবার তিনি আমাকে পিছে ফেলে দিলেন, বিজয়ী হলেন। তিনি বলেন, এই বিজয় সেই বিজয়ের বদলা। (সুনানে আবু দাউদ- ২৫৭৮)

৮. আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে আড়াল করে দাঁড়িয়েছিলেন আর আমি হাবশিদের খেলা দেখছিলাম। মসজিদের কাছে তারা যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে খেলা করছিল।
(সহিহ বুখারি-৩৫৩০)

৯. আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন,
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিসওয়াক করে তা ধোয়ার জন্য আমাকে দিতেন। আমি নিজে প্রথমে তা দিয়ে মিসওয়াক করতাম, অতঃপর সেটা ধুয়ে তাঁকে দিতাম। (সুনানে আবু দাউদ-৫২)

১০. আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন,
মৃত্যু রোগকালীন অবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করতেন, আমি আগামীকাল কার ঘরে থাকব। আগামীকাল কার ঘরে? এর দ্বারা তিনি আয়েশা (রা.)-এর ঘরের পালার ইচ্ছা পোষণ করতেন। সহধর্মিণীগণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যার ঘরে ইচ্ছা অবস্থান করার অনুমতি দিলেন। তখন নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আয়েশা (রা.)-এর ঘরে ছিলেন। এমনকি তাঁর ঘরেই তিনি ইন্তিকাল করেন। আয়েশা (রা.) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার জন্য নির্ধারিত পালার দিন আমার ঘরে ইন্তিকাল করেন এবং আল্লাহ তাঁর রুহ কবজ করেন এ অবস্থায় যে তাঁর মাথা আমার গণ্ড ও সিনার মধ্যে ছিল এবং আমার থুথু (তাঁর থুথুর সঙ্গে) মিশ্রিত হয়ে যায়। তারপর তিনি বলেন, ‘এ সময় আবদুর রহমান ইবনু আবু বকর (রা.) আমার কাছে প্রবেশ করে এবং তার হাতে মিসওয়াক ছিল। আর আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে (আমার বুকে) হেলান অবস্থায় রেখেছিলাম। আমি লক্ষ করলাম যে তিনি আবদুর রহমানের দিকে তাকাচ্ছেন। আমি বুঝলাম যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিসওয়াক চাচ্ছেন। আমি তখন জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি আপনার জন্য মিসওয়াক নেব? তিনি মাথা নাড়িয়ে জানালেন যে হ্যাঁ। তখন আমি মিসওয়াকটি নিলাম। কিন্তু মিসওয়াক ছিল তার জন্য শক্ত, তাই আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি এটি আপনার জন্য নরম করে দেব? তখন তিনি মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বললেন। তখন আমি তা চিবিয়ে নরম করে দিলাম। এরপর তিনি ভালোভাবে মিসওয়াক করলেন। তাঁর সম্মুখে পাত্র অথবা পেয়ালা ছিল (রাবি উমারের সন্দেহ) তাতে পানি ছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বীয় হস্তদ্বয় পানির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে তার দ্বারা তাঁর চেহারা মুছতে লাগলেন। তিনি বলছিলেন -আল্লাহ ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই, সত্যিই মৃত্যুযন্ত্রণা কঠিন। তারপর দুহাত ওপরের দিকে উঠিয়ে বলছিলেন, আমি উচ্চে সমাসীন বন্ধুর সঙ্গে (মিলিত হতে চাই)। এ অবস্থায় তাঁর ইন্তিকাল হলো আর হাত শিথিল হয়ে গেল। (সহিহ বুখারি- ৪৪৪৯)

 ফরিদপুর প্রতিদিন
 ফরিদপুর প্রতিদিন
এই বিভাগের আরো খবর