সোমবার   ২৪ জুন ২০২৪   আষাঢ় ১১ ১৪৩১   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

 ফরিদপুর প্রতিদিন
সর্বশেষ:
অ্যান্টিভেনমের ঘাটতি না রাখতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ভাঙ্গা-যশোর রেল লাইন: চার জেলার যোগাযোগে নতুন দিগন্ত সরকারকে ১২৫ কোটি ডলার দিচ্ছে উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশে চালু হবে রু-পে কার্ড, ভারতে টাকা-পে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিলেন ওয়াকার-উজ-জামান ঈদযাত্রা: পদ্মাসেতুতে ১৩ দিনে টোল আদায় ৪২ কোটি টাকা খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রে পেস মেকার বসানোর কাজ চলছে: আইনমন্ত্রী পুলিশের এক অতিরিক্ত আইজিপি ও ৯ ডিআইজিকে বদলি-পদায়ন
১১০৮

সালথায় শুরু হয়েছে মৌমাছি চাষ ও মধু সংগ্রহ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৩  

ফরিদপুরের সালথায় বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে কুল চাষ। কুলের গাছে গাছে হলুদ ফুল আর সেই ফুলের মৌ মৌ গন্ধ। মৌমাছি তার গুনগুন শব্দে মধু আহরণে ব্যস্ত। এসব মধু সংগ্রহ করতে কুলখেতের পাশে বাক্স বসিয়েছেন মৌচাষিরা। এতে মৌমাছির মাধ্যমে কুলের ফুলের পরাগায়ন হচ্ছে। 

এতে ফসলের উৎপাদণ বাড়বে, অন্যদিকে মধু আহরণ করা যাচ্ছে। সমন্বিত এই চাষে সব ধরনের ফসল ও মৌচাষি উভয়ই লাভবান হবেন। কুলের ফুল শেষ হতে না হতেই চলে আসবে সরিষা ফুলের সৃজন। সেজন্য এই মৌচাষে আগ্রহ বাড়াতে যুবকদের দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ।

জানা যায়, এসব খেতের পাশে বিভিন্ন দলের মৌচাষিরা তাদের বাক্স স্থাপন করেছেন। আর বাক্স থেকে এবার এই উপজেলায় ৫৫ থেকে ৬০ মণ মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কালোজিরা ফুল ও আমের ফুলের সৃজন পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় মধু আহরণ চলবে বলে মৌমাছি চাষিরা জানিয়েছেন।

উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনে সালথা উপজেলার ঝুনাখালীতে মৌচাষের অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ৩০জন যুবক-যুবতী। প্রশিক্ষণ নেওয়াকালীন কয়েকজন যুবক বলেন, আমরা প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর জানলাম এই মৌচাষে আমরা সফলতার দ্বারপ্রান্তে উঠতে পারব। বেকারত্ব দূর করার জন্য আমরা পড়াশোনা শেষ করেই চাকরির খোঁজে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়াই। কিন্তু এতো কর্মক্ষেত্র নেই। তাই আমরা এই মৌচাষ শুরু করলে অল্প সময়ে এবং অল্প পুঁজি দিয়ে লাভবান হতে পারব।

গট্টির ঝুনাখালী কুল বাগানের পাশে মৌবাক্স দিয়ে মধু আহরণ করা হচ্ছে। তাই সালথা উপজেলা থেকে মধু কিনতে এসেছেন তৌহিদুর রহমান। তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক মানুষ এখানে আসছেন। আমিও আসছি। এতে অনেকে আগ্রহী হয়ে মধু কিনছেন। আমিও কিনলাম। এটা খুবই ভালো ও আমরা সহজেই ভালো মধু পাচ্ছি।

২০১০ সাল থেকে টাটকা শাক-সবজি, ফল-মূল চাষের পাশাপাশি মৌমাছি চাষের সঙ্গে জড়িত আছেন সৈয়দ মাহ্মুদ হোসেন (বাবুল)। ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের কসবা গট্টি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি উপজেলা কৃষি অফিস ও যুবউন্নয়নের প্রশিক্ষক। তিনি মৌমাছি পালনের সঙ্গে যুবক উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেন।

তিনি বলেন, যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রথমে ১০টা বাক্স দিয়ে শুরু করি মৌমাছি চাষ। কয়েক বছরধরে মধুতে ভালো লাভবান হওয়ার কারণে এ বছরের প্রথম দিকে উপজেলার গট্টির ঝুনাখালিতে নাছিম মিয়ার কুল বাগানের পাশে ৭০টি বাক্স নিয়ে মৌচাষ শুরু করেছি। সামনে বাক্স আরো বাড়বে। কুলের পর সরিষা, ধনিয়া, খেসারি, কালজিরা, লিচু, মিষ্টি কুমড়া, তিলসহ অনেক ফসলের ফুল ও আমের ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করা যাবে। এবছর ৬০ মণ মধু সংগ্রহ হবে বলে আশাবাদী। বর্তমানে কুলের মধু আমরা প্রতিকেজি ৫০০ টাকা হিসেবে বিক্রি করছি।

সালথা উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোস্তফা আহসান কামাল বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এ উপজেলায় ৩০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে তাদেরকে মৌমাছি চাষে সহযোগিতা করা হবে। ভবিষ্যতে তাদের জন্য সরকারিভাবে কোনো আর্থিক সহায়তা আসলে তা দেওয়া হবে। এ উপজেলায় এবার ৬০ মাণ মধু আহরণ হবে বলে আমরা আশা করছি।

ফরিদপুর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালনক খান মোহাম্মাদ নঈম ফরিদপুর প্রতিদিনকে বলেন, সালথা উপজেলায় প্রচুর কুলের আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে কুলগাছে ফুল আসছে এবং সেই ফুলে মৌমাছির আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। কুলগাছে ফুল আসা অবস্থায় অনেক মৌচাষিরা মৌবাক্স স্থাপন করেছে। সামনে সরিষা ফুল আসতেছে। তখন মধু আরো বাড়বে। সেজন্য যুবকদের বেকারত্ব দূর করার জন্য অন্যান্য প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আমরা যুব উন্নয়ন থেকে কৃষককে মৌবাক্স ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।

 ফরিদপুর প্রতিদিন
 ফরিদপুর প্রতিদিন
এই বিভাগের আরো খবর