বুধবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২০   অগ্রাহায়ণ ১৭ ১৪২৭   ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২

 ফরিদপুর প্রতিদিন
সর্বশেষ:
রাজবাড়ীতে নতুন করে ৭ জনের করোনা শনাক্ত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত, ১০ ডিসেম্বর ফরিদপুর পৌরসভা নির্বাচন ‘পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশে শান্তি বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর’
১০৪

সালথায় মাদ্রাসা ভেঙে লুট করলো কওমিপন্থিরা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর ২০২০  

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় একটি আহলে হাদিস মাদ্রাসায় হামলা করে ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে এলাকার কওমিপন্থি একটি গ্রুপ।

বুধবার (১৮ নভেম্বর) সকালে উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের কামদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তবে কওমিপন্থি সমর্থকরা এ হামলার সঙ্গে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেছেন।

থানা সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার দিনব্যাপী আহলে হাদিসপন্থিদের মুরতাদ ঘোষণা করে মাদরাসাটি ভেঙে জ্বালিয়ে দেওয়া হবে বলে স্থানীয় কওমি মাদরাসার পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করা হয়। এতে আহলে হাদিসপন্থিরা ভীত হয়ে সালথা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বিষয়টি জানান।

ইউএনও তাদেরকে ও কওমি মাদরাসার নেতাদের গতকাল তার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে বলেছিলেন, বুধবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদে দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসতে চেয়েছিলেন। এছাড়া রাতে ওই মাদ্রাসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিলো। তবে হামলাকারীদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় আক্রমণ ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

মাদ্রাসার পরিচালক ইলিয়াস জানান, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রায় দুই/তিনশ লোক আহলে হাদিস মাদ্রাসায় হামলা চালায়। ওই সময় মাদ্রাসায় ৩৫ জন শিক্ষার্থী ও চারজন শিক্ষক ছিলেন। হামলাকারীদের ভয়ে তারা মাদ্রাসা ছেড়ে পালিয়ে যান।

এরপর হামলাকারীরা মাদ্রাসার দুটি ঘর ভেঙে ফেলে। এছাড়া ১৪টি সিলিং ফ্যান, একটি সৌর বিদ্যুতের প্যানেলসহ নিবাসীদের যাবতীয় মূল্যবান সামগ্রী লুট করা হয়। এর ফলে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, এলাকার কওমিপন্থি ও আহলে হাদিসপন্থিদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধ নিরসনে বুধবার সকাল ১০টায় দুই পক্ষকে নিয়ে উপজেলা পরিষদে আলোচনার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই কওমিপন্থিরা হামলা চালিয়ে মাদ্রাসার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে।

এছাড়া হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সালথা উপজেলার ইউএনও মোহাম্মদ হাসিব সরকার জানান, হামলার ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ওই মাদ্রাসার ৩৫ শিক্ষার্থীকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কারা এ হামলার সঙ্গে জড়িত ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 ফরিদপুর প্রতিদিন
 ফরিদপুর প্রতিদিন
এই বিভাগের আরো খবর