মঙ্গলবার   ১৮ মে ২০২১   জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪২৮   ০৭ শাওয়াল ১৪৪২

 ফরিদপুর প্রতিদিন
সর্বশেষ:
করোনায় বাড়ল মৃত্যু ও শনাক্ত লকডাউনের বিষয়ে ৭ দিন পর সিদ্ধান্ত দৌলতদিয়ায় ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ, গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া ফরিদপুরে প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন
৩৭

সালথায় ‘ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা’ তরুণী, ২ লাখ টাকায় মীমাংসা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ মে ২০২১  

ফরিদপুরের সালথায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২০ বছরের এক তরুণীকে একাধিবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে মো. ফেলা মাতুব্বর (৩০) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ওই তরুণী এখন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনাটি দুই লাখ টাকায় মীমাংসা করে তরুণীর গর্ভে থাকা সন্তানকে নষ্ট করে ফেলানোর সিদ্ধান্ত দেয় স্থানীয় কিছু মাতুব্বর ও সমাজপতি। এ ঘটনায় এলাকাবাসীল মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ধর্ষিত তরুণীকে উদ্ধার করে তার গর্ভের সন্তানকে বাঁচানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

ধর্ষণে অভিযুক্ত ফেলা মাতুব্বর সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের নারানদিয়া গ্রামে বকা মাতুব্বরের ছেলে। ফেলা বিবাহিত। তার কোনো সন্তান নেই। আর ধর্ষণের শিকার তরুণী উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের মোড়হাট এলাকার বাসিন্দা।

ভুক্তভোগীর খালাতবোন অভিযোগ করে বলেন, আমার খালাতো বোন মাঝে মাঝেই আমার বাড়িতে এসে থাকতো। একপর্যায়ে বছর খানেক আগে আমার বিবাহিত দেবর ফেলার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরপর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। ফলে সে এখন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

এলাকাবাসী জানায়, ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে তারা তরুণীকে বিয়ে করার জন্য ফেলাকে চাপ দেয়। কিন্তু এতে তিনি রাজি হন না। বরং স্থানীয় প্রভাবশালী আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষক নুরুল ইসলাম মাতুব্বর, আবুল খায়ের, বকুল মাতুব্বর ও সায়েম মোল্যাকে ম্যানেজ করে ধর্ষিতার পরিবারকে মীমাংসার জন্য চাপ দেয়। পরে ১৫ এপ্রিল থেকে ২০এপ্রিলের মধ্যে কোনো একদিন রাতে ওই প্রভাবশালীরা পাশের কুমাপট্টি গ্রামে থাকা ধর্ষিতার খালু নান্নু মোল্যার বাড়িতে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি গোপনে মীমাংসা করে দেয়।

তারা বলেন, এই টাকায় শুধু ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়নি, সালিশে ধর্ষিতার গর্ভে থাকা সন্তানকেও নষ্ট করার সিদ্ধান্ত দেন প্রভাবশালীরা। মীমাংসার পর থেকে ধর্ষিত তরুণী তার গর্ভের সন্তান নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আর অভিযুক্ত ফেলা মাতুব্বর বিদেশে চলে গেছেন বলে দাবি করেছেন তার পরিবার। তবে কেউ বলেছেন, ধর্ষক ফেলা দেশেই আছেন। তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

মীমাংসার বিষয় স্বীকার করে সালিশে থাকা প্রভাবশালীরা বলেন, আমরা সালিশে উপস্থিত ছিলাম স্থানীয়ভাবে। তবে কত টাকা মীমাংসা হয়েছে তা আমরা জানি না। এটা ওই তরুণীর খালু বলতে পারবেন। আর সন্তান নষ্ট করার বিষয়টি সঠিক নয়। এমন কোনো সিদ্ধান্ত সালিশে নেয়া হয়নি। তবে এ বিষয়ে ধর্ষিতার খালুর ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ধর্ষিতার প্রতিবেশীরা বলেন, আমরা ঘটনাটি শুনেছি। ধর্ষিত তরুণী তার বোনের বাড়িতে থেকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হবার পর থেকে ওই তরুণী এলাকায় নেই। তবে সালিশে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা হতাশ হয়েছি। প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই তাকে উদ্ধার করে তার গর্ভে থাকা সন্তানের জীবন বাঁচানোর জন্য।

ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সালথা-নগরকান্দা সার্কেল) সমিনুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুজ্জামান বলেন, নারানদিয়া গ্রামের এই রকম কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে দেখছি।

 ফরিদপুর প্রতিদিন
 ফরিদপুর প্রতিদিন
এই বিভাগের আরো খবর