রোববার   ১৭ জানুয়ারি ২০২১   মাঘ ৩ ১৪২৭   ০৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

 ফরিদপুর প্রতিদিন
সর্বশেষ:
হোয়াইট হাউজের শীর্ষ পদে বাংলাদেশের জায়ান গোয়ালন্দে বাল্য বিয়ে পন্ড করে দিয়েছে প্রশাসন করোনা বিস্তাররোধে ফরিদপুরে সিএসটি এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু ফরিদপুরে শীতার্তদের মধ্যে কম্বল বিতরণ
৩৬

সালথায় কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় আপসের চেষ্টায় আপন চাচা!

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২১  

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া এক কিশোরীকে (১৩) ধর্ষণের ঘটনায় আপস মীমাংসার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে ভুক্তভোগী কিশোরীর আপন চাচার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ফুঁসে উঠেছেন উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ। 

জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর বাড়ি সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নে। তার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের আমোরদী গ্রামের আবু দাউদ দুলালের ছেলে সোহাগ হোসেনের (১৮) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) রাতে মোবাইলে ছাত্রীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আমোরদী গ্রামের একটি বাগানের ভেতর নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

বিষয়টি কিশোরীর পরিবার জানতে পেরে শুক্রবার সকালে ওই ছাত্রীকে নিয়ে তার মা সালথা থানায় মামলা করতে আসেন। কিন্তু এ সময় ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর আপন চাচা ফোন করে তাদের থানা থেকে ফিরিয়ে আনেন। বলেন, ‘মেয়েটা তো বিয়ে দিতে হবে। এখন মামলা-মোকাদ্দমায় জড়ালে মেয়েটার জীবন নষ্ট হয়ে যাবে।’ এই বলে ওই ছাত্রী ও তার মাকে সান্ত্বনা দিয়ে বাড়ি নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে তাদেরকে শহরে থাকা ভাইয়ের বাসায় পাঠিয়ে দেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ওই ছাত্রীর চাচা মেম্বার প্রার্থী। তাই ভাতিজির ধর্ষণের ঘটনায় মামলা করে এলাকায় পরিবেশ খারাপ করতে চাচ্ছে না। চাচার ধারণা, ভাতিজির এ ঘটনা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে বদনাম হবে। এতে তার নির্বাচনেরও ক্ষতি হবে। তিনি গোপনে ধর্ষকের পারিবারের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে মীমাংসা করার চেষ্টা করছেন।

গ্রামবাসীরা বলছেন, ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার বিচার বা মামলা না হলে ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর পরিবারকে সামাজিকভাবে বয়কট করা হবে। এমন পরিস্থিতিতে ওই ছাত্রী ও তার মা বাড়িতে তালা মেরে উধাও হয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে ওই ছাত্রীর চাচা বলেন, ‘আমরা বিষয়টি পরে শুনেছি। ভাতিজি ধর্ষণের শিকার হয়েছে, ঘটনা সত্য। তবে আমার ভাই জেলা সদরের একটি দফতরের বড় কর্মকর্তা। তিনি এ ঘটনায় মামলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন এবং আমার ওই ভাতিজি ও ভাবিকে তার বাসায় নিয়ে রেখেছেন। আসলে বদনাম হবে বলে আমরা বিষয়টি নিয়ে আইনি সহায়তা নেইনি।’

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘ওই ছাত্রীর ধর্ষণের ঘটনা জানার পর সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। তবে এ ব্যাপারে ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর পরিবার কোনো অভিযোগ করবে না বলে জানিয়ে দেয়। তারা অভিযোগ না করলে আমরা কী করতে পারি? অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

 ফরিদপুর প্রতিদিন
 ফরিদপুর প্রতিদিন
এই বিভাগের আরো খবর