শুক্রবার   ১৯ জুলাই ২০২৪   শ্রাবণ ৪ ১৪৩১   ১৩ মুহররম ১৪৪৬

 ফরিদপুর প্রতিদিন
৪৬৬

শিক্ষকদের আলোচনায় ডাকবে সরকার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩ জুলাই ২০২৪  

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি ‘প্রত্যয়’চালুর প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনে থাকা বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের নেতাদের সঙ্গে শিগগির আলোচনায় বসতে যাচ্ছে সরকার। এ ব্যাপারে অর্থ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আজ বুধবার বসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই বৈঠকের পর ফেডারেশনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনার দিনক্ষণ চূড়ান্ত হবে। তবে আলোচনায় বসার আগে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে আন্দোলনের কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হতে পারে।  

সরকারের একটি সূত্র জানায়, ‘প্রত্যয়’ইস্যুতে অর্থ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ দিনের যে কোনো সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাদের নিয়ে বৈঠক করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী শামসুন নাহার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তোফাজ্জেল হোসেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব খায়রুজ্জামান মজুমদার এবং শিক্ষা সচিব সোলেমান খানসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, চলমান কর্মবিরতির কারণে শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা বিশেষ ক্লাস নিয়ে পুষিয়ে দেওয়ার জন্য শিক্ষকদের অনুরোধ জানানো হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, ‘প্রত্যয়’ চালুর প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলনে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক হবে। আজ না হলে আগামীকাল ওই বৈঠক হতে পারে। তবে সরকার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে আলোচনায় বসার আহ্বান জানাতে পারে। 

বিশ্ববিদ্যালয় দেখভালকারী বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর গতকাল মঙ্গলবার সমকালকে বলেন, ‘সরকারের তরফে শিগগির আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রত্যয় স্কিমের পুরো বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারণী ব্যাপার। ইউজিসির তরফে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অচলাবস্থা আমরা শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টাকে জানিয়েছি। সরকার বিষয়টি দেখছে।’ 

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি ‘প্রত্যয়’চালুর প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সুপার গ্রেডে অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল চালুর দাবিতে গত সোমবার থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছেন দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এর আগে ওই প্রজ্ঞাপন বাতিলে সরকারকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন।

ফেডারেশনের সভাপতি সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধ্যাপক ড. আখতারুল ইসলাম বলেন, ‘আন্দোলনের অংশ হিসেবেই আমরা একাডেমিক কাজ থেকে বিরত থাকছি। যাদের ওপর এই পেনশন চাপানো হলো, তাদের সঙ্গে আলোচনা না করে এই ধরনের সিদ্ধান্ত যারা চাপিয়েছেন, তাদেরই এর দায়দায়িত্ব নিতে হবে।’

ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা আমাদের জন্য কিছু করছি না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার জন্য, মেধাবীদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকতায় ধরে রাখার জন্য কাজ করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। মেধাবীরা এ পেশায় আসবে না। সর্বজনীন পেনশনে তারা কেন যাবেন? সঞ্চয়পত্র কিনে রাখলেও তো তারা একই সুবিধা পাবেন।’

এদিকে, গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যার পর আজ বুধবার জরুরি সভা ডেকেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন। রাত ৯টায় অনলাইনে এই সভা হবে। সভায় ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির ২১ সদস্য ছাড়াও সব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অংশ নেবেন। ফেডারশনের একাধিক নেতা সমকালকে জানান, সরকারের দেওয়া ব্যাখ্যা সভায় প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। কারণ শিক্ষকদের পক্ষ থেকে ‘প্রত্যয়’ মেনে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

 ফরিদপুর প্রতিদিন
 ফরিদপুর প্রতিদিন
এই বিভাগের আরো খবর