শুক্রবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০২২   অগ্রাহায়ণ ২৪ ১৪২৯   ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

 ফরিদপুর প্রতিদিন
সর্বশেষ:
রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে: প্রধানমন্ত্রী সব ক্ষেত্রে শুদ্ধাচার চর্চার আহ্বান আইজিপির ১০ ডিসেম্বর পরিবহন ধর্মঘট থাকছে না ফরিদপুরে চলছে দানা পেঁয়াজ চাষ ফরিদপুর পুলিশের শ্রেষ্ঠ সার্কেল অফিসার সুমন রঞ্জন সরকার চাল আমদানিতে শুল্ক সুবিধার মেয়াদ তিন মাস বাড়ল
১৯৪

রাজবাড়ীর ফুটপাতে শীতের পিঠা বিক্রির ধুম

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর ২০২২  

শীতে গরম গরম চিতই পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা। আর তা যদি হয় হরেক রকমের ভর্তা দিয়ে, তাহলে তো কথাই নেই। সেই গরম চিতইয়ের স্বাদ নিতে রাজবাড়ীর অস্থায়ী পিঠার দোকানগুলোতে এখন ভিড় করছেন ভোজনরসিকরা। ফলে হাড় কাঁপানো শীত পড়ার আগেই রাজবাড়ীতে ধুম পড়েছে পিঠা বিক্রির।

চালের গুড়ার তৈরি এ চিতই পিঠা কদর এখন সর্বত্র। ফুটপাত, রাস্তার মোড়সহ বিভিন্নস্থানে অস্থায়ী পিঠার দোকানগুলোতে তৈরি হচ্ছে চিতই ও ভাপা পিঠা। তবে বেশিরভাগ দোকানেই চাহিদা চিতই পিঠার। দিনে একজন দোকানি প্রায় ১৫ থেকে ২২ কেজি চালের পিঠা বিক্রি করছেন। সঙ্গে রয়েছে হাঁস ও মুরগির মাংসসহ খাসির ভুঁড়ি।

প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলে রমরমা এ পিঠার ব্যবসা। এসময় পিঠার সঙ্গে ফ্রি দেওয়া হয় ধনিয়া, কালোজিরা, শুটকিসহ নানা ধরনের ভর্তা। এছাড়া অনেকে দোকানে ভর্তার পাশাপাশি ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী হাঁস ও মুরগির মাংসের পাশাপাশি রাখা হয় খাসির ভুঁড়ি, যা প্লেটের আকারভেদে দাম রাখা হয়। প্রতিটি চিতই পিঠার দাম রাখা হয় পাঁচ টাকা। বাসায় পিঠা তৈরিতে নানা সীমাবদ্ধতা ও ঝামেলা এড়াতে এখন পিঠা তৈরির দোকানগুলোতে ভিড় বাড়ছে। তাছাড়া ভোজনরসিকরা গল্প-আড্ডায় স্বাদ নিচ্ছেন গরম পিঠার।

রাজবাড়ী জেলা শহরের পান্না চত্বরের ইংলিশ মার্কেট, ২ নম্বর রেলগেট, শহীদ খুশি রেলওয়ে ময়দান, পাবলিক হেলথ, মুরগি ফার্মসহ বিভিন্নস্থানে পিঠা তৈরিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তাদের অস্থায়ী দোকানের পাশে ভোজনরসিকদের জন্য রাখা হয়েছে বসে খাবার জন্য চেয়ার। এসময় কেউ বসে আবার কেউ দাঁড়িয়ে হাতের ওপর প্লেট রেখে ভর্তা দিয়ে খাচ্ছেন পিঠা। কেউ আবার বাসার ঝামেলা, খরচ ও সময় বাঁচাতে পার্সেল করে নিয়ে যাচ্ছেন।

পিঠা খেতে আসা শাহিন মুসল্লি, শরিফুল ইসলাম, সুব্রত সাহা, রফিক, আকাশ বিশ্বাসসহ অনেকে জানান, শীতে গরম চিতই পিঠা ভালো লাগে বলে দূর-দূরান্ত থেকে তারা পিঠা খেতে আসেন। তাছাড়া পিঠার সঙ্গে নানা ধরনের ভর্তা ও মাংস পাওয়া যায়। গল্প ও আড্ডায় পিঠা খেতে ভালো লাগে। বাসায় পিঠা তৈরি অনেক ঝামেলা। কারণ সব ধরনের উপকরণ ব্যবস্থা করে পিঠা তৈরি করায় অনেক সময়ও ব্যয় হয়। সে তুলনায় দোকান থেকে পিঠা কিনে নিয়ে যাওয়া সহজ এবং দোকানের পিঠাও ভালো হয়। ফলে বাসার জন্য তারা দোকান থেকে পিঠা অর্ডার করে নিয়ে যান। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাঁচে।

পিঠা বিক্রেতা ফজর আলী মণ্ডল বলেন, এখন শুধু চিতই পিঠা বিক্রি করছেন। বিকেল থেকে রাত ৯টার মধ্যে প্রায় ২০ কেজি চালের পিঠা বিক্রি হচ্ছে। এসময় কেউ এখানে বসে গরম গরম খাচ্ছেন, আবার অনেকে পার্সেল নিয়ে যাচ্ছেন। গরম পিঠার সঙ্গে তিন ধরনের ভর্তা দেন। কেউ মাংস খেতে চাইলে হাঁসের মাংস ও খাসির ভুঁড়ির ব্যবস্থা আছে। প্রতিপ্লেট ১০০ টাকা।

তিনি আরও জানান, এখলো ভালোভাবে শীত পড়েনি। কিছুদিন পর থেকে প্রায় ৩০ কেজি চালের পিঠা বিক্রি হবে। পিঠার মান ভালো হওয়ায় তার পিঠার চাহিদা অনেক।

আরেক পিঠা বিক্রেতা শিউলি বেগম জানান, ঢেঁকিতে চাল কুটে তিনি পিঠা তৈরি করেন। যার কারণে তার পিঠা ভালো হয়। এখন দিনে প্রায় ১৫ থেকে ২২ কেজি চালের পিঠা বিক্রি করছেন। পার্সেলে ১০ থেকে ৫০ পিস পিঠা প্রতিনিয়তই যাচ্ছে। পিঠার সঙ্গে চার ধরনের ভর্তা ফ্রি দেন। হাঁস ও মুরগির মাংস বিক্রি করেন। তাছাড়া তিনি ভাপা পিঠাও তৈরি করেন। শীত যত বাড়বে তার পিঠা বিক্রিও তত বাড়বে।

 ফরিদপুর প্রতিদিন
 ফরিদপুর প্রতিদিন
এই বিভাগের আরো খবর