সোমবার   ২৪ জুন ২০২৪   আষাঢ় ১১ ১৪৩১   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

 ফরিদপুর প্রতিদিন
সর্বশেষ:
অ্যান্টিভেনমের ঘাটতি না রাখতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ভাঙ্গা-যশোর রেল লাইন: চার জেলার যোগাযোগে নতুন দিগন্ত সরকারকে ১২৫ কোটি ডলার দিচ্ছে উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশে চালু হবে রু-পে কার্ড, ভারতে টাকা-পে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিলেন ওয়াকার-উজ-জামান ঈদযাত্রা: পদ্মাসেতুতে ১৩ দিনে টোল আদায় ৪২ কোটি টাকা খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রে পেস মেকার বসানোর কাজ চলছে: আইনমন্ত্রী পুলিশের এক অতিরিক্ত আইজিপি ও ৯ ডিআইজিকে বদলি-পদায়ন
২৭৭

যেসব শব্দ ব্যবহার করে দোয়া করলে আল্লাহ অপছন্দ করেন

প্রকাশিত: ১১ মে ২০২৩  

মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করার কিছু আদব আছে। যেনতেনভাবে আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত নয়। এমন কোনো শব্দ সেখানে ব্যবহার করা উচিত নয়, যা আল্লাহ অপছন্দ করেন। রাসুল (সা.) স্বীয় উম্মতদের শিক্ষা দিয়ে গেছেন যে কী ধরনের শব্দে আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত নয়।

ইহকালেই শাস্তি প্রার্থনা করা

অনেকে আবার পরকালীন শাস্তি থেকে বাঁচার আশায় ইহকালেই নিজের শাস্তি কামনা করে। এটা বান্দার ওপর কঠিন বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই আল্লাহর কাছে শাস্তির দোয়া না করে; বরং ক্ষমাপ্রার্থনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। ইহকালে শাস্তির দোয়া করার ভয়াবহতা নিয়ে একটি হাদিস রয়েছে, সেখানে নবীজি (সা.) এক সাহাবিকে এ ধরনের দোয়া করতে নিষেধ করেছেন।

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) একজন মুসলিম রোগীকে সেবা করতে গেলেন। সে (অসুখে কাতর হয়ে) অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিল, এমনকি সে পাখির ছানার মতো হয়ে গেল। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে বলেন, তুমি কি কোনো বিষয় প্রার্থনা করছিলে অথবা আল্লাহর কাছে বিশেষভাবে কিছু চেয়েছিলে? সে বলল, হ্যাঁ। আমি বলেছিলাম, হে আল্লাহ, আপনি পরকালে আমাকে যে সাজা দেবেন তা এই ইহকালেই দিয়ে দিন। সে সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, সুবহানাল্লাহ, তোমার এমন সামর্থ্য নেই যে তা বহন করবে? অথবা তুমি তা সহ্য করতে পরবে না। তুমি এমনটি বললে না কেন? হে আল্লাহ, আমাদের কল্যাণ দাও পৃথিবীতে এবং কল্যাণ দান করো পরকালেও। আর জাহান্নাম থেকে আমাদের রক্ষা করো। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, তখন তিনি তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। আর আল্লাহ তাকে সুস্থ করে দেন। (মুসলিম, হাদিস : ৬৭২৮)

তোমার ইচ্ছা হলে আমাকে দান করো

নবীজি (সা.) তার উম্মতদের এ ধরনের বাক্য দ্বারা দোয়া করতে নিষেধ করেছেন। তাই মুমিনের জন্য দোয়ায় এ ধরনের বাক্য ব্যবহার করা উচিত নয়।

আনাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন দোয়া করে, সে যেন দৃঢ়তা প্রকাশের সঙ্গে দোয়া করে। আর সে যেন না বলে, ‘হে আল্লাহ, যদি তুমি ইচ্ছা করো, তবে আমাকে দান করো।’ কেননা মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর জন্য কোনো বাধ্যকারী নেই। (মুসলিম, হাদিস : ৬৭০৪)

মৃত্যু কামনা করা

অনেক সময় মানুষ ঋণের বোঝা, বিপদাপদ বা অসুস্থতায় হতাশ হয়ে মহান আল্লাহর কাছে মৃত্যু কামনা করে দোয়া করে বসে, যা একদম উচিত নয়। রাসুল (সা.) তার উম্মতদের কঠিন বিপদেও মৃত্যু কামনা করতে নিষেধ করেছেন।

হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আনাস (রা.)-এর সনদে নবী (সা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যেন বিপদে পড়ার কারণে মৃত্যু আকাঙ্ক্ষা না করে। তবে যদি মৃত্যু তার কামনা হয়, তাহলে সে যেন বলে, ‘হে আল্লাহ, আপনি আমাকে জীবিত রাখুন যতক্ষণ পর্যন্ত আমার হায়াত আমার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যদি আমার জন্য মৃত্যু কল্যাণকর হয়, তবে আমাকে মৃত্যু দিয়ে দিন।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৭০৭)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে এবং মৃত্যু আসার আগে যেন মৃত্যুর জন্য দোয়া না করে। কেননা তোমাদের কেউ মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। আর মুমিন লোকের বয়স তার কল্যাণই বাড়িয়ে থাকে। (মুসলিম, হাদিস : ৬৭১২)

 ফরিদপুর প্রতিদিন
 ফরিদপুর প্রতিদিন