রোববার   ১৭ জানুয়ারি ২০২১   মাঘ ৩ ১৪২৭   ০৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

 ফরিদপুর প্রতিদিন
সর্বশেষ:
হোয়াইট হাউজের শীর্ষ পদে বাংলাদেশের জায়ান গোয়ালন্দে বাল্য বিয়ে পন্ড করে দিয়েছে প্রশাসন করোনা বিস্তাররোধে ফরিদপুরে সিএসটি এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু ফরিদপুরে শীতার্তদের মধ্যে কম্বল বিতরণ
২৫

যেখানে ঘুম ভাঙে অতিথি পাখিদের কলকাকলিতে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২১  

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ঘোপ বাওড়ে শীত এলেই অতিথি পাখিদের দেখা মেলে। বিস্তীর্ণ জলাশয়ে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে এখানে আসে অতিথি পাখিরা।

এসময় রোজ ভোরে পাখির কলকাকলিতে উপজেলার মানুষের ঘুম ভাঙে।

মূল শহর থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দূরে ঘোপ বাওড়। ভোর হতেই ওড়াওড়ি ও সাঁতার খেলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে পাখিরা। তাদের কলকাকলি কিচির মিচিরে মুখরিত হয় জলাশয়ের চারপাশ।

স্থানীয় পাখিপ্রেমীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উড়ে আসা অতিথি পাখিদের মধ্যে বেশি দেখা যায় পাতি সরালি, নালিয়ার বিল, কাতলাশুরের বিল, ইছামতির বিল, ফলিয়ার বিলসহ বিভিন্ন খাল-বিল, জলাশয় ও নদীর অববাহিকায় এসব পাখির বিচরণ দেখা যায়।

পৃথিবীতে প্রায় পাঁচ হাজার প্রজাতির পাখি রয়েছে। এর মধ্যে অনেক প্রজাতির পাখি শীতপ্রধান দেশ থেকে খাবার ও উষ্ণতার জন্য হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে এদেশে চলে আসে। বালিহাঁস, সারস পাখি, ডুবুরি পাখিসহ নানা অতিথি পাখির সঙ্গে দেশীয় পাখির কলকাকলিতে প্রতি বছরের এসময় মুখরিত হয়ে ওঠে ঘোপ বাওড়।

এ বাওড়ের বাসিন্দা ও আব্দুর রহিম বলেন, শীতের শুরুতেই বাওড়ে অতিথি পাখির দেখা মেলে। ঝাঁক বেঁধে বিচিত্র স্বরে ডাকতে ডাকতে ওড়ে এরা। এসময় মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি হয়। এ দৃশ্য দেখতে পরিবার পরিজন নিয়ে ভিড় জমান পাখিপ্রেমীরা। 

উপজেলার আরেক বাসিন্দা রামকৃষ্ণ সরকার বলেন, আমি ব্যবসা করি। আমার স্ত্রী একটি বেসরকারি এনজিওতে চাকরি করেন। ছুটির দিনে আমরা পরিবার নিয়ে ঘোপ বাওড়ে বেড়াতে যাই। অতিথি পাখিদের দেখে খুব ভালো লাগে। অনেক সময় নাম না জানা পাখির দেখা মেলে। আমার মতো অনেক পাখিপ্রেমী এখানে ঘুরতে আসেন। 

মহম্মদপুর আর এস কে সরকারি স্কুলের শিক্ষক আনোয়ার হোসেন শাহিন বলেন, ‘প্রতি বছর শীত মৌসুমে বহুদূর থেকে উড়ে আসে অতিথি পাখিরা। তাদের দেখতে রোজ আসেন অসংখ্য পাখিপ্রেমী। কেউ যেন এসব পাখি শিকার না করে, সেজন্য বিভিন্ন সময় আমরা প্রচার ও বাইসাইকেল র‌্যালি করি। 

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মানোবেন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘পাখিরা শুধু প্রকৃতির শোভাই বাড়ায় না, ভারসাম্যও রক্ষা করে। পোকা মাকড় খেয়ে এরা কৃষকের উপকার করে। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অতিথি পাখির অভয়ারণ্য গড়ে তুলতে হবে। ’

মহম্মপদুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামানন্দ পাল বলেন, ‘অতিথি পাখি আমাদের পরিবেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে। এরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি পরাগায়নের মাধ্যমে কৃষকের ফসল বাড়ায়। তাছাড়া, শীতে অতিথি পাখি দেখতে পাখিপ্রেমীদের ভিড় বাড়ে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব পাখি শিকার বন্ধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

 ফরিদপুর প্রতিদিন
 ফরিদপুর প্রতিদিন
এই বিভাগের আরো খবর