মঙ্গলবার   ১৩ এপ্রিল ২০২১   চৈত্র ২৯ ১৪২৭   ০১ রমজান ১৪৪২

 ফরিদপুর প্রতিদিন
সর্বশেষ:
বালিয়াকান্দি উপজেলার শিল্পী ও সাংবাদিকদের সম্মাননা প্রদান পাংশায় পুলিশের উদ্যোগে বাগদুলী বাজারে মাস্ক বিতরণ সর্বাত্মক লকডাউন’ ঘোষণায় দৌলতদিয়ায় উপচেপড়া ভিড় মাগুরায় বিয়ের রাতে নববধূকে হত্যার অভিযোগ সালথা তাণ্ডব: তিন কোটি টাকার ক্ষতি, আটক ৬১ মাগুরায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক মাগুরায় ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক শিক্ষার্থীদের মাঝে বাই সাইকেল বিতরণ মাগুরায় মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ
৮১

মামুনুল হকের নারী কেলেংকারী ও হেফাজতের রাজনীতি 

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল ২০২১  

আলোচিত নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রিসোর্ট থেকে নারীসহ হেফাজত নেতা মামুনুল হকের অবস্থানের আলোচিত ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরও অন্য এক নারীর সাথে একটি গোপন ফোনালাপ ও সেদিনের ঘটনায় জড়িত নারীর সাথে একটি এবং মামুনুল হকের স্ত্রী ও তার বড়বোনের একটি অডিও, কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীর আগের সন্তানের সঙ্গে কথোপকথন ও আগের সেই সন্তানের ফেসবুক লাইভসহ বেশ কয়েকটি অডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে। এসব বিশ্লেষণ করে সেই নারীটি আসলে তার দ্বিতীয় স্ত্রী নাকি রক্ষিতা তা নিয়ে সন্দেহ দানা বেঁধেছে সাধারণ মানুষের মনে। 

সেদিন সাংবাদিকদের জেরার মুখে মামুনুল হক বলেন, ছুটি কাটাতে তিনি একজন মেয়ের বয়সী মেয়েকে নিয়ে সোনারগাঁও রিসোর্টে ঘুরতে গিয়েছিলেন এবং রাত কাটিয়েছেন। যাকে ২ বছর পূর্বে নাকি বিয়ে করেছিলেন এমন দাবিও করেন। তবে নানা সূত্রে জানা গেছে, তার এই বিয়ের কথা তার প্রথম বা একমাত্র স্ত্রী কিছুই জানতেন না। মিডিয়াতে মামুনুল হকের এই নারীঘটিত কেলেঙ্কারির কথা শুনে তার স্ত্রী মুষড়ে পড়েন এবং কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। 

এবিষয়ে একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, বিষয়টা এমন নয় যে, ইসলাম ধর্মে দ্বিতীয় স্ত্রী থাকা অপরাধ। বরং অনেকে ধর্মের দোহাই দিয়ে ৪টি স্ত্রীও রাখেন। কিন্তু মামুনুল হক যদি দুই বছর আগে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেও থাকেন, তাহলে এক বছর আগে দেয়া ওয়াজে প্রথম স্ত্রীর কথা উল্লেখ করলেও দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম মুখে নিলেন না কেন? কারণ একজন গোপন রক্ষিতাকে স্ত্রীর পরিচয় দেয়া যায় না। সেদিন রিসোর্টে নেয়া মেয়েটি যে মামুনুল হকের বিবাহিত স্ত্রী নয় তা কয়েকটি বিষয় খেয়াল করলেই বোঝা সহজ হবে।  

এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, এর আগে ইরান সরকার সে দেশে পতিতা ও খদ্দেরদের জন্য যে প্রথা তৈরি করেছে সে বিষয়ে নজর দেই। সেখানে পতিতালয় থাকা শরীয়ত মোতাবেক হারাম হলেও সরকারের তত্ত্বাবধায়নে পরিচালিত একাধিক পতিতালয় রয়েছে। তবে শরিয়া আইন মোতাবেক কোন পুরুষ যদি সেই পতিতালয়ে যান, তাহলে প্রথমে তাকে পছন্দ অনুসারে একজন নারীকে (পতিতা পেশায় নিয়োজিত) ঠিক করতে হবে এবং তাকে শরিয়া আইনানুযায়ী বিয়ে করতে হবে। বিয়ের এই কার্যটি পতিতালইয়ের একটা নির্দিষ্ট রুমেই হয়। বিয়ে করার পর সে পতিতার সাথে দৈহিকভাবে মিলিত হওয়ার পূর্বে পতিতার ন্যায্য মূল্য বা পাওনা মিটিয়ে দিয়ে তারপর ঘন্টা কয়েক সেখানে সেই নারীর সঙ্গ লাভ করতে পারেন। আবার যখন সেই লোক পতিতালয় থেকে বেরিয়ে আসবেন, তখন তিনি তাকে সেই শরিয়াহ আইন মোতাবেক “তালাক” দিয়ে নির্ঝঞ্ঝাট সেখান থেকে চলে যেতে পারবেন।

তিনি বলেন, এখানে মামুনুল হকরা রক্ষিতা রাখার জন্য এই পন্থাই সাধারণত অবলম্বন করে থাকেন। বাংলাদেশ সরকারের আইনানুসারে যে কেউ বিয়ে করলে তা সরকারি নথিতে রেজিস্ট্রি করতে হয়। ধর্মীয় মোতাবেক বিয়ে হলেও সরকারি নথিতে রেজিস্ট্রি না হলে সে বিয়েকে ‘বিয়ে’ বলে স্বীকৃতি দেয়া যায় না। মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীর ভোটার আইডি বা ন্যাশনাল আইডিতে মামুনুল হকের সাথে তার বিয়ের বিষয়টি উল্লেখ নাই। অর্থাৎ মামুনুল হকের স্ত্রী সে নয়। মানুমুল হক দুইজন সাক্ষী (তার নিজস্ব চ্যালাচামুন্ডু) রেখে এক-দুইটা সুরা পাঠ করে ‘হয়তো’ সেই নারীকে বিয়ে করেছেন অথবা করেননি, কিন্তু সেই নারীকে যে মামুনুল তার প্রথম স্ত্রী এবং সমাজের কাছ থেকে গোপন রেখে রিসোর্টে আনন্দফুর্তি করেছেন, সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই।

সূত্র বলছে, মামুনুল হক যাকে দুই বছর আগে বিয়ে করা স্ত্রী বলছেন, সেই বিয়ের কোন রেজিষ্ট্রেশন হয় নাই বা সেই বিয়ের কোন দলিলপত্র নাই। এমনকি তিনি শরিয়ত মতে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি বা সম্মতি নিয়ে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেননি, যা প্রথম স্ত্রীর সাথে ফাঁস হওয়া সেই অডিওটি (রিসোর্টে ধরা খাওয়ার পর মুক্তির পর) শুনলেই পরিষ্কার হবে। এ সময় তিনি প্রথম স্ত্রীকে বলেন, দ্বিতীয় স্ত্রীর ব্যাপারে কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করলে তিনি সবই জানেন এবং তাঁর সম্মতিতেই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন বলে স্বীকার করেন। কিন্তু তার একমাত্র স্ত্রী ফোনে বলেন, “আপনি আগে বাসায় আসেন”। অর্থাৎ তাঁর হতবিহ্বল স্ত্রী মামুনুল হকের শিখিয়ে দেয়া কথায় কর্ণপাত করেন না।

অর্থাৎ শরিয়ার নামে ভণ্ডামি করা মামুনুল হক, যিনি দীর্ঘদিন ধরে সারা বাংলাদেশে জিহাদের স্ফুলিংগে ছড়ানোর চেষ্টা করছিলেন, তিনি নিজেই একজন চরিত্রহীন লম্পট যিনি দীর্ঘদিন ধরে তার প্রথম স্ত্রীকে ঠকাচ্ছিলেন এবং নিজে একজন রক্ষীতা রেখে সময়ে-অসময়ে বিভিন্ন জায়গায় ফুর্তিবাজি করে বেড়াচ্ছিলেন।

এদিকে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা মেজর (অবঃ) আখতারুজ্জামান বলেন, ধর্মের নামে এইসব জামায়াতি-হেফাজতিরা বাংলার মানুষকে যেভাবে ঠকাচ্ছে তা নিশ্চয়ই অপরাধ এবং কঠিন শাস্তিযোগ্য ফৌজদারী অপরাধ। তবে যারা ভাবছেন যে মামুনুল হকের দুশ্চরিত্র জনসম্মুখে উন্মোচন করে দিলেই তার গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হয়ে যাবে, তারা রাজনীতির গভীর পাঠ খেয়াল করছেন না। মামুনুল হকরা কী করে, না করে তার অনুসারীরা ভালোভাবেই জানে। ১২/১৭ জন কর্মী কবরের মাটিতে রক্তের দাগ শুকানোর আগেই এরা বান্ধবী বা তথাকথিত দ্বিতীয় বউ নিয়ে রিসোর্টে যায়, এতে তাদের অনুসারীদের কিছুই যায় আসে না। এদের কাছে নারীর কোনো সম্মান নেই, তাই প্রথম বউয়ের অনুমতি না নেয়া অথবা গোপনে কাগজপত্র ছাড়া বিয়ে করা যে বেআইনি এসবকে এরা কোনো ইস্যুই মনে করে না। এদের অনুসারীদের অনেকেই ডাইরেক্ট এদের ভিকটিম, ছোটবেলা পায়ূ নির্যাতিত কিংবা শারীরিকভাবে নির্যাতিত এসব অনুসারীরা একই সাথে লূত ( আঃ) এর কওমের ইতিহাসও পড়ে, ইসলামে এরকম নির্যাতন নিষিদ্ধ সে জ্ঞানও লাভ করে কিন্তু আবার তাদের নেতাদের অনুসরণও করে। 

তিনি বলেন, এর পেছনের রাজনীতিটা মূলত বিপ্লবের স্বপ্ন। মামুনুল হকরা এদের সামনে নতুন স্বপ্ন নিয়ে হাজির হয়েছে। এরা টের পেয়েছে যে একটা ভাইপ তৈরি করতে পারলে, শক্তি প্রদর্শন করতে পারলে এরাও ক্ষমতার অংশীদার হতে পারে। 

বিএনপির এই নেতা বলেন, এই যে লাখো লাখো মাদ্রাসা ছাত্র, এদের কোনো ব্যবহারিক বিদ্যা নেই, তাই এদের সামনে কোনো আশাবাদের কিছু নেই। এদের অধিকাংশই কোনো এক গ্রামের মসজিদে দুই হাজার টাকা বেতনের মোয়াজ্জিন হিসেবে মানুষের বাড়িতে খেয়ে আর মানুষের হাতের দিকে তাকিয়ে জীবন পার করে দেবে। জেনেটিক্যালি কয়েক প্রজন্মের অপুষ্টি,  প্রায় বন্দি ও নির্যাতিত শৈশব, নানামুখি বিদ্যা অর্জনের প্রতিবন্ধকতা এদেরকে মানসিকভাবে প্রকৃত মানুষ হিসেবে তৈরি করতে পারে নি। খেয়াল করে দেখবেন যে এদের সামনে যখন কোনো ওয়াজিয়ান ওয়াজে বলে, আমি ৩টা পিএইচডি করেছি কিংবা বলে যে অক্সফোর্ডের সেরা শিক্ষক হয়েছি কিংবা বলে এন্টারকটিক মহাদেশকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে-এরা এইসব গালগল্প অবলীলায় বিশ্বাস করে। এসবকে প্রশ্ন বা অবিশ্বাস করার মতো বুদ্ধিজ্ঞান এদের নেই। এই দোষ তাদের না, এই দোষ বাদ বাকি মানুষদের, যারা দিনের পর দিন প্রশ্রয় দিয়ে এসব নিন্দার্থাল টাইপ মানুষ তৈরি করতে সহায়তা করেছেন।  সুতরাং এরা কী বিশ্বাস করে কি করে না, নেতার সততায় ও নিষ্ঠায় এরা যতই সন্দেহজনক থাকুক, এই নেতাদেরকে অনুসরণ করে দুনিয়াদারির ফুলসিরাত পার হওয়া ছাড়া এদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।

মেজর (অবঃ) আখতারুজ্জামানের মতে, মৌলবাদী রাজনীতির উত্থানকে মোকাবেলা করার জন্য এসব অডিও ফাঁস, এদের মুখোশ উন্মোচন খুব একটা ফলপ্রসূ হবে না। মৌলবাদের রাজনীতিকে মোকাবেলা করতে হলে মানুষকে কাজ দিতে হবে, এদের জীবন ধারনের জন্য সম্মানজনক ব্যবস্থা করতে হবে। মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদেরকে জীবনের মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসা, এদেরকে কাজেকর্মে লাগানোটাই হচ্ছে কার্যকর পদ্ধতি।

 ফরিদপুর প্রতিদিন
 ফরিদপুর প্রতিদিন
এই বিভাগের আরো খবর