রোববার   ১৩ জুন ২০২১   জ্যৈষ্ঠ ৩০ ১৪২৮   ০৪ জ্বিলকদ ১৪৪২

 ফরিদপুর প্রতিদিন
সর্বশেষ:
পাঁচ শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে নিয়োগ পরীক্ষা: ইউজিসি মাগুরায় ডিজিটাল কোর্ট শীর্ষক অনলাইন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত সরকারি ঘর পাচ্ছে আলফাডাঙ্গার ৬০০ গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার ২০২২ সালের জুনে বাজারে মিলবে পাটের বায়োডিগ্রেডেবল পলিথিন ‘সরকার এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না যাতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয়’
১৩৪

বোয়ালমারীতে কৃষক হত্যায় মামলা দায়ের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ মার্চ ২০২১  

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় কৃষক আকমল শেখ (৬০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

গত শুক্রবার (১৯ মার্চ) রাতে নিহতের ছেলে মো. ইব্রাহিম শেখ বাদী হয়ে বোয়ালমারী থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন। এ মামলায় ১৭ জন আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন, চতুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক ও বোয়ালমারী সরকারি কলেজ ছাত্র-ছাত্রী সংসদের সাবেক ভিপি শরীফ মো. সেলিমুজ্জামান লিটু, চতুল ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক আহবায়ক জামাল মাতুব্বর, সবুজ মাতুব্বর, নুরু মাতুব্বর, সাহিদুল মাতুব্বরসহ ১৭জন। এ মামলায় অজ্ঞাত আরো ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

থানায় মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মার্চ বুধবার রাতে উপজেলার চতুল ইউনিয়নের পোয়াইল গ্রামের কৃষক আকমল শেখ (৬০) বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালন অনুষ্ঠানের খিচুড়ি খেয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। বাড়ি থেকে স্ত্রীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে দোকানে বিড়ি কেনার জন্য বের হলে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে যায়। পরিবারের লোকজন তাকে মারাত্মক জখম অবস্থায় উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শুক্রবার রাত ১০টার দিকে নিহত আকমল শেখের ছেলে মো. ইব্রাহিম শেখ বাদী হয়ে বোয়ালমারী থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

মামলার বিষয়ে চতুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরীফ মো. সেলিমুজ্জামান লিটু জানান, ‘সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষের লোকেরা আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করছে। তবে ওই কৃষক নিহতের পর তার স্ত্রী ও ছেলে সাংবাদিকদের বলেছিলেন কে বা কারা খুন করেছে তা আমরা জানি না। কিন্তু এখন রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় আমাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, এটা আসলে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

শেখর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. ইস্রাফিল মোল্যা বলেন, আমার মনে হয় না সে (লিটু) এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছে। তার বাড়ি অনেক দূরে। গ্রাম্য রাজনীতির শিকার সে। চেয়ারম্যানকে আসামি করার তীব্র নিন্দা জানাই।

এ ছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ময়না ইউপি চেয়ারম্যান নাসির মো. সেলিম, উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও ঘোষপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম ফারুক হোসেন, দাদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন, সাতৈর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাতৈর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মজিবর রহমান মোল্যা এবং পরমেশ্বরদী ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আলম মিনা মুকুল কৃষক হত্যা মামলায় একজন জনপ্রতিনিধিকে মিথ্যাভাবে ফাঁসানোর জন্য তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল আলম জানান, নিহতের ছেলের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা মামলা নিয়েছি। তদন্ত করে দেখা হবে যাদের নাম দিয়েছে তারা এ ঘটনার সাথে প্রকৃত জড়িত কিনা। ঘটনার সঙ্গে প্রকৃত জড়িতদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 ফরিদপুর প্রতিদিন
 ফরিদপুর প্রতিদিন
এই বিভাগের আরো খবর