সোমবার   ২৪ জুন ২০২৪   আষাঢ় ১১ ১৪৩১   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

 ফরিদপুর প্রতিদিন
সর্বশেষ:
অ্যান্টিভেনমের ঘাটতি না রাখতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ভাঙ্গা-যশোর রেল লাইন: চার জেলার যোগাযোগে নতুন দিগন্ত সরকারকে ১২৫ কোটি ডলার দিচ্ছে উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশে চালু হবে রু-পে কার্ড, ভারতে টাকা-পে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিলেন ওয়াকার-উজ-জামান ঈদযাত্রা: পদ্মাসেতুতে ১৩ দিনে টোল আদায় ৪২ কোটি টাকা খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রে পেস মেকার বসানোর কাজ চলছে: আইনমন্ত্রী পুলিশের এক অতিরিক্ত আইজিপি ও ৯ ডিআইজিকে বদলি-পদায়ন
২৮৮

ফরিদপুরে সূর্যমুখীর চাষ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  

অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় ফরিদপুরে দিন দিন সূর্যমুখী ফুলের চাষাবাদ বাড়ছে। জেলার বিএডিসির-বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন উৎপাদিত বীজ স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। গত কয়েক বছর এই ফুলের চাষ করে সাফল্যের দেখা পেয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। 

সূর্যমুখী তেলের নানা পুষ্টিগুণ থাকায় দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ফুলের চাষাবাদ। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে সারিবদ্ধভাবে সূর্যমুখীর বীজ বপন করা হয়। এরপর ১০০ থেকে ১১০ দিনের মধ্যে ফসল তোলা যায়। সামান্য রাসায়নিক সার এবং অল্প পরিমাণ সেচ দিলেই হয় এ ফসলে। প্রতি একর জমিতে খরচ হয় ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। 
আর একরপ্রতি জমির উৎপাদিত বীজ থেকে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব। এর বাইরে সূর্যমুখী গাছ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। ফরিদপুর শহরতলির বদরপুর এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ কেন্দ্রে তিন একর জায়গায় বপন করা হয়েছে বারি সূর্যমুখী-২ জাতের ফুলের বীজ। ডিসেম্বরের শেষ থেকে প্রতিটি গাছে ফুল ফুটতে শুরু করেছে। এখন ফুল শুকিয়ে বীজ উৎপন্ন হওয়ায় গাছের চেহারায় পরিবর্তন হচ্ছে।

বিএডিসির-বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের উদ্যোগে তিন একর জায়গায় সূর্যমুখী ফুলের চারা রোপণ করা হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বৈচিত্র্যময় কৃষির জেলা ফরিদপুরে প্রায় সব ধরনের ফসল উৎপাদন হয়। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ সূর্যমুখী তেলের চাহিদা থাকায় সূর্যমুখীর চাষ বাড়ছে। এ বছর জেলার ৯টি উপজেলায় সূর্যমুখীর চাষ করেছেন প্রায় দুই শতাধিক কৃষক। গঙ্গাবন্দি এলাকার চাষি গিয়াস উদ্দিন জানান, সূর্যমুখীর চাষে একরপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। আর ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার বীজ বিক্রি করা যায়। তিনি আরও বলেন, খরচ কম এবং অধিক লাভ হওয়ার কারণে এই ফুলের চাষাবাদ করেছেন। শহরতলির হারকিন্দি এলাকার চাষি হুমায়ুন জানান, অনাবাদি জমিতেও সূর্যমুখীর চাষ করা যায়। অন্য যেকোনো ফসলের তুলনায় উৎপাদন খরচও অনেক কম। ভালোভাবে চাষ করতে পারলে লাভও হয় অনেক। সূর্যমুখীর চাষ বাড়লে আমদানি করা তেলের চাহিদা কমানো যাবে।

জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম জানান, ফরিদপুরের দুইশ চাষি গত কয়েক বছর ধরে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ করছেন। লাভজনক হওয়ায় অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন এই ধরনের চাষাবাদে। অন্য ফসলের চেয়ে চাষাবাদ কম সময়ে হয় এবং লাভজনক। সে কারণে সূর্যমুখী চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। আর তাই ভোক্তাদের কাছে দিন দিন এর চাহিদাও বাড়ছে।
 

 ফরিদপুর প্রতিদিন
 ফরিদপুর প্রতিদিন
এই বিভাগের আরো খবর