শনিবার   ০৫ ডিসেম্বর ২০২০   অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৭   ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২

 ফরিদপুর প্রতিদিন
সর্বশেষ:
২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম মুক্ত হবে দেশ ১৩-১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্মৃতিসৌধ এলাকায় প্রবেশ নিষেধ
১০৫

ফরিদপুরের তাম্বুলখানা খামার আবারও বীজ উৎপাদনে শীর্ষে

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২০  

দেশে বর্তমানে বিএডিসির অধিনস্থ বীজ ও উদ্যান উইংয়ের আওতাভুক্ত সরকারি ২৪টি বীজ উৎপাদনকারী খামারের মধ্যে অন্যতম ফরিদপুর তাম্বুলখানা বীজ উৎপাদন খামার।

২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে এসএল-এইটএইচ হাইব্রিড বীজ উৎপাদনে দেশের শীর্ষে অবস্থান করেছে এই বীজ উৎপাদন খামারটি। তাম্বুলখানা বীজ উৎপাদন খামারে মূলত ধান, হাইব্রিড ধান, গম, ভুট্টা, আলুভিত্তিক বীজ উৎপাদন করা হয়ে থাকে। এছাড়াও ডাল, তৈল ও সবজি বীজ উৎপাদনসহ বন্যা পুনর্বাসনের ধানের চারা উৎপাদন ও বিতরণ কাজ করে থাকে তাম্বুলখানা বীজ উৎপাদনকারী খামার। 

সূত্র জানায়, চলতি বছর ১২ একর জমিতে উন্নত জাতের এস্টারিক্স বীজ আলু চাষ করে ৮৬ টন বীজ আলু উৎপাদন হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই টন বেশি। ১০ একর জমিতে উচ্চফলনশীল বারি গম-৩৩ চাষ করে ১৩ টন বীজ উৎপাদন করা হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও তিন টন বেশি। এছাড়া বোরো মৌসুমে ১৫ একর জমিতে ব্রি ধান ২৮ চাষ করে ২৫ টনের বেশি বীজ উৎপাদন করা হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক টন বেশি।

পাশাপাশি সাত একর জমিতে ব্রি ধান ৫৮ চাষ করে ১৩ টন বীজ উৎপাদন করা হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক টন বেশি। ৩৪ দশমিক ৫৮ একর জমিতে বোরো হাইব্রিড এসএল-এইটএইচ চাষ করে ৫২ দশমিক চার টন বীজ উৎপাদন করা হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় দেড়গুণ বেশি বীজ উৎপাদন হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, ২০১৮-১৯ উৎপাদন বর্ষে বীজ উৎপাদন করে শীর্ষে অবস্থান করে তাম্বুলখানা বীজ উৎপাদন খামার। চলতি ২০১৯-২০ বছরে বীজ উৎপাদন বর্ষে ৭৮ দশমিক ৫৮ একর জমি থেকে ১৭১ দশমিক চার টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১৮৯ দশমিক ৯ টন বীজ উৎপাদন হয়েছে। করোনাকালীন সময়ে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বীজ উৎপাদনে দেশের শীর্ষে অবস্থান করছে বলে দাবি খামার কর্তৃপক্ষের।

তাম্বুলখানা বীজ উৎপাদন খামারের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. মনোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘বিএডিসির চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় করোনাকালে ভালো বীজ ব্যবহার করে শ্রমিকদের দক্ষতাকে সর্বোচ্চ কাজে লাগানো হয়েছে। জমির সর্বোত্তম ব্যবহারে ভালো ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে সুষম সার ব্যবহার করে এবং সর্বোপরি খামার বিভাগের সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে শীর্ষে থাকা সম্ভব হয়েছে।’

খামার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমের আউশ বীজ ব্রিধান-৪৮ ১১ একর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৭ দশমিক ছয় টন এবং চলতি আমন মৌসুমের ব্রিধান-৭৫, ব্রিধান-৮৭, ব্রিধান-৩৯ ও বিনাধান-১৭ সর্বমোট ৬৫ একরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯০ দশমিক ৬৯৫ মেট্রিক টন। করোনাকাল ও বন্যাপরবর্তী সময়ে ভালো ম্যানেজমেন্ট ও ভালো বীজ ব্যবহারে এবারও আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তাম্বুলখানা খামারটি পর্যায়ক্রমে ভিত্তি ও মানঘোষিত বীজ উৎপাদন করে ফরিদপুরসহ দেশের ক্রমবর্ধমান বীজের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কাজ করছে। এছাড়া বীজ শিল্প উন্নয়ন ও বিকাশে গুরুত্বসহ দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় বিশেষ ভূমিকা পালন করছে বলে তারা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৬১ সালের ১৬ অক্টোবর ৩৭ নম্বর অধ্যাদেশ বলে ইস্ট পাকিস্তান ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন প্রতিষ্ঠান লাভ করে, যা বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) নামে পরিচিত। দেশের কৃষকদের কাছে কৃষি উপকরণ সহজ প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে এবং সেচ এলাকার সম্প্রসারণ কাজ ত্বরান্বিত করার জন্য এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

 ফরিদপুর প্রতিদিন
 ফরিদপুর প্রতিদিন
এই বিভাগের আরো খবর