শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২০   কার্তিক ১৫ ১৪২৭   ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

 ফরিদপুর প্রতিদিন
সর্বশেষ:
‘আগামী কয়েকদিন ইন্টারনেটের গতি কিছুটা ধীর হতে পারে’ সব সরকারি ওয়েবসাইট হালনাগাদ রাখার নির্দেশ সুদের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ, স্ত্রীকে ঋণদাতার হাতে দিলেন স্বামী
২৬৩

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা: দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের প্রত্যাশা

নিউজ ডেস্ক:

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০  

অ্যানুয়াল পারফরমেন্স এগ্রিমেন্ট-২০২০ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের দুর্নীতি থেকে মুক্ত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছি বলে তাদের পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব, আমরা জনগণের কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ।’ যারা সরকারি চাকরি করে তারাও জনগণের সেবা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী যেসব কথা বলেছেন, তা গুরুত্বের দাবি রাখে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবশ্যই দুর্নীতিমুক্তভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, দুর্নীতি এ দেশের এক স্বীকৃত সামাজিক ব্যাধি। দেশে দুর্নীতি দমনে একটি কমিশন রয়েছে বটে; কিন্তু এই কমিশনের শত উদ্যোগ সত্ত্বেও দুর্নীতি রোধ করা যাচ্ছে না।

বলা বাহুল্য, এ পর্যন্ত দেশের যতটা উন্নতি হয়েছে, দুর্নীতি না থাকলে এই উন্নয়নের মাত্রা আরও অনেক বেড়ে যেত। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই সত্য অনুধাবন করতে হবে। তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী এবং এই প্রজাতন্ত্রের সাধারণ মানুষের প্রতি রয়েছে তাদের দায়বদ্ধতা। তারা বেতন-ভাতাও পান জনগণের টাকায়। তাই জনগণের কল্যাণই হওয়া উচিত তাদের প্রধান ব্রত।

বাংলাদেশে দুর্নীতির প্রকার ভেদ অনেক। মেগা প্রকল্প থেকে শুরু করে সরকারি কেনাকাটায় দুর্নীতি হচ্ছে আকছার। এমন অনেক দুর্নীতির খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, যেগুলো পড়লে বা শুনলে চোখ কপালে উঠে যায়। বড় দুর্নীতির সঙ্গে ছোট দুর্নীতিও হচ্ছে দেশে। ঘুষ-বাণিজ্যের কথা আমরা সবাই জানি।

বলা যেতে পারে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি করার সুযোগ বেশি। তারা যদি নিজেরা দুর্নীতিমুক্ত থাকেন এবং অন্যের দুর্নীতি রোধে অবস্থান নেন, তাহলে দুর্নীতির পরিমাণ ও মাত্রা যে বহুলাংশেই কমে যাবে, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় বলেছেন, কে কী বলল বা লিখল সেদিকে যাতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কান না দেন।

এ ব্যাপারে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, সমালোচনা যদি গঠনমূলক হয়, তাহলে তা গুরুত্বের সঙ্গেই গ্রহণ করা উচিত। এটা ঠিক, কখনও কখনও দেশের বিরোধীদলীয় রাজনীতিকরা, এমনকি কোনো কোনো গণমাধ্যমও সরকারের অহেতুক সমালোচনা করে থাকে। এসব সমালোচনায় কান না দেয়াই ভালো। তবে যুক্তিসঙ্গত ও গঠনমূলক সমালোচনা হলে সেদিকে মনোযোগী হওয়াই শ্রেয়।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সমাজ ও রাষ্ট্রের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের কার্যপ্রণালী ও কর্মধারার ওপর নির্ভর করে অনেক কিছু। তাদের সামান্য ভুলে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের অনর্থ, আবার তাদের মেধা ও সৃজনশীলতায় উপকৃত হতে পারে দেশ।

তাই আমরা বলব, প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তাদের উদ্দেশে যে উৎসাহমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, শতভাগ আন্তরিকতা দিয়ে তা গ্রহণ করতে হবে। এই করোনাকালে তাদের দায়িত্বও বেড়ে গেছে অনেক। সেই দায়িত্ব পালনে তারা আন্তরিক থাকবেন- এটাই প্রত্যাশা।

 ফরিদপুর প্রতিদিন
 ফরিদপুর প্রতিদিন
এই বিভাগের আরো খবর