শুক্রবার   ৩০ জুলাই ২০২১   শ্রাবণ ১৪ ১৪২৮   ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

 ফরিদপুর প্রতিদিন
সর্বশেষ:
দখলদার উচ্ছেদ, এবার দেশের সকল নদীতে নামফলক বসাবে সরকার টিকা নেয়ার সর্বনিম্ন বয়স কমিয়ে ২৫ বছর নির্ধারণ সড়কে আন্ডারপাস, ওভারপাস ও ইউলুপ নির্মাণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর প্রথমবারেই আড়াই কোটি টাকা ভ্যাট দিলো ফেসবুক
৫৫

প্রধানমন্ত্রীর উপহারে নিজ ভিটায় ঈদ, ফরিদপুরে ওদের উৎসব থামছে না

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২১  

সবহারা মানুষগুলোর উৎসব হতো পরের ভিটায় বা অপরের উঠানে। এবার বদলেছে তাদের ভাগ্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার পেয়ে নিজের ভিটা, নিজের বাড়িতে ঈদ করছেন দেশের লাখো দুস্থ মানুষ। এর মধ্যে ফরিদপুরের স্বপ্ননগর প্রকল্পে ঠাঁই পাওয়া পরিবারগুলোর আনন্দ যেন থামছেই না।

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ফরিদপুরের নয়টি উপজেলায় এ পর্যন্ত ৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ হাজার ৬০৭ ভূমিহীন ছিন্নমূল পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় ওই ঘরের জমিও তাদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেয়া হয়েছে। এখনও সামান্য কিছু ঘরের কাজ বাকি আছে। অনেক ঘরে এরই মধ্যে বরাদ্দপ্রাপ্তরা উঠে পড়েছেন। এ তথ্য ফরিদপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যাদের জমি নেই, ঘর নেই এমন পরিবারগুলোর ঠাঁই মিলেছে এসব ঘরগুলোতে। তাই জমির সঙ্গে পাকা ঘর পেয়ে নতুন মাত্রায় এবারের ঈদ আনন্দ উপভোগ করছেন নতুন স্বপ্নের ঠিকানায় ঠাঁই পাওয়া হাজার হাজার পরিবারগুলো। 

এবারের ঈদ এসব ‘স্বপ্ননগর’ বাসিন্দাদের কাছে বড়ই আনন্দের! তাদের কাছে এবারের ঈদ যেন ডাবল ঈদ হিসেবে ধরা দিয়েছে। একদিকে স্বপ্নের ঠিকানা অন্যদিকে ঈদ। প্রত্যেক পরিবারে যেন ডাবল খুশি। যেন ডাবল ঈদ আনন্দ। প্রত্যেকটি ঘর যেন ভূমি ও গৃহহীন মানুষের কাছে স্বপ্নের ঠিকানা, পরম নির্ভরতার স্থান।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের এসব বাড়িতে নতুন ঠিকানা তৈরি করা বাসিন্দাদের স্বপ্নের ঠিকানায় সরেজমিনে গিয়ে তাদের ডাবল ঈদ আর খুশির কথা জানা গেছে। বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের সুকদেবনগর গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী বিধবা নারী রাহেলা বেগম একজন স্বপ্নের ঠিকানার বাসিন্দা।

তিনি বলেন, ‘নিজের একখান ঘর হবে, জমি হবে কখনও স্বপ্নেও ভাবিনি। জীবনে এই পথমবারের মতো একটা নয় একসাথে দুইটা ঈদ মনে হচ্ছে। আব্দুস সামাদ শেখের স্ত্রী সালেহা বেগম বলেন, আমাদের মতো গরিবের জীবন তো পথে পথেই শেষ হয়ে যায়। কেউ হয়ত বিপদের সময় চাইল, ডাইল, কাপড় দেয়; কিন্তু জমির সাথে ঘর দিয়ার কথা শুনি নাই। শেখ হাসিনা আমাদের জন্য এই ব্যবস্থা করে দিছে। আমরা তার প্রতি চিরদিনের জন্য কৃতজ্ঞ। আল্লাহ উনারে আরও অনেকদিন বাঁচায় রাখুক।’

সালথা এলাকার নুর জাহান বেগম নামে এক নারী জানান, আমার স্বামী ভ্যান চালায়। আমাদের চার ছেলে-মেয়ে নিয়ে আগে অন্যের বাড়িতে থাকতাম। পরের বাড়ি থাইকে ঈদের আনন্দ করতি পারতাম না। ছেলে-মেয়েরা প্রাণ খুলে হাসতে পারতো না, খেলতে পারতো না। এইবার সরকার আমাগে একটা ঘর দিছে। অনেক আনন্দে নিজের বাড়িতে ঈদ করবো।

ফরিদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুম রেজা জানান, একদিন যে মানুষগুলোর কোনো ঠিকানা ছিল না, ছিল না বসবাসের জন্য এক টুকরো ভূমি, মাথার উপরে একটি ছাদ, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পাকা ঘর পেয়ে প্রত্যেক উপকারভোগী ও তার পরিবারে নেমে এসেছে আনন্দের বন্যা। তাদের চোখে মুখে আজ পরিতৃপ্তির হাসি। অনেকের জীবনে এবারকার ঈদ ধরা দিয়েছে এক পরম পাওয়ার ঈদ তাদের কাছে যেন দুইটা খুশি দুইটা আনন্দ একসাথে অন্যরকম উৎসবে পরিণত হয়েছে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে আলফাডাঙ্গায় স্বপ্ননগরী নামে নতুন একটি গ্রামের সৃষ্টি করা হয়েছে যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে শুরু করে মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য হাটবাজারও তৈরি করা হয়েছে। অসহায় দরিদ্র মানুষগুলোর অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মত নয় শুধুই অনুভবের বিষয়।

 ফরিদপুর প্রতিদিন
 ফরিদপুর প্রতিদিন
এই বিভাগের আরো খবর