সোমবার   ০৪ জুলাই ২০২২   আষাঢ় ২০ ১৪২৯   ০৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

 ফরিদপুর প্রতিদিন
সর্বশেষ:
ফরিদপুরে স্কুল মাঠে পশুর হাট বন্ধ করলেন ইউএনও প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে হবে তরল জ্বালানি ঈদুল আযহা উপলক্ষে এক লক্ষ তিনশত মে.টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ বোয়ালমারীতে ১০ ভিক্ষুক পেলেন ১০ ছাগল সরকার আমকে বিশ্ববাজারে নিতে কাজ করছে
২৬৩১

নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত ফরিদপুরের কারিগরেরা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২২  

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। আবহমান বাংলার প্রধান বাহক নৌকা। বর্ষা এলেই গ্রামগঞ্জে বেড়ে যায় নৌকার কদর। এ গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাতায়াত, হাটবাজার, মাছ ধরা, গোখাদ্য সংগ্রহ, বিভিন্ন এলাকায় খেয়া পারাপারের জন্য নৌকা অতি জরুরি বাহন হিসেবে প্রতিটি গ্রামে বর্ষা মৌসুমে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাহন হিসেবে পরিগণিত। 

তাই বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ফরিদপুরের নৌকা তৈরির কারিগরেরা। এ মৌসুমে নৌকার ব্যাপক চাহিদা থাকায় অধিক লাভবান হন তারা। সে কারণেই দিন-রাত পরিশ্রম করে নৌকা তৈরি করছেন তারা। বিক্রিও হচ্ছে ভালো। নৌকার সঠিক মূল্য পেয়ে খুশি তারা।

নৌকা তৈরির কারিগর সোহেল বলেন, বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নৌকার ব্যাপক চাহিদা বাড়ছে। আর সে কারণে আমরা দিন রাত পরিশ্রম করে নৌকা তৈরি করছি। বিক্রিও হচ্ছে ভালো। গতবারের চেয়ে দামও একটু বেশি। নৌকা বিক্রির টাকায় আমরা পরিবার নিয়ে ভালোই আছি।

আষাঢ় ও শ্রাবণ বর্ষাকাল হলেও ফরিদপুরের চরাঞ্চলে আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিন এ চার মাস বর্ষার পানিতে জেলার দুর্গম চরাঞ্চলসহ কয়েকটি উপজেলার রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে থাকে। ফলে এসব অঞ্চলের মানুষের বর্ষাকালের প্রধান বাহন নৌকা। দৈনন্দিন প্রতিটি কাজে নৌকার প্রয়োজন হয় এখানে। ফলে বর্ষা মৌসুমে এ জেলায় নৌকার কদর বহুগুণে বেড়ে যায়। জেলার সব উপজেলাতেই কম-বেশি। 

বর্ষা মৌসুমে নৌকার প্রয়োজন হলেও ফরিদপুর সদরের দুর্গম চরাঞ্চল, চরভদ্রাসন, ভাঙ্গা, নগরকান্দা, সালথা উপজেলাতে সবচেয়ে বেশি নৌকার প্রয়োজন হয়ে থাকে।   

বর্তমানে ফরিদপুরের নৌকা তৈরির কারিগররা ছোট-বড় কুশা ও ডিঙি নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দিন-রাত নৌকা তৈরি করছেন। ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা ও সিএন্ডবি ঘাটের বিভিন্ন স্থানে চলছে নৌকা তৈরি ও মেরামতের কাজ। কেউ কাঠ কাটছেন, আবার কেউ হাতুড়ি কাঠের খুটখাট শৈল্পিক ছন্দে নৌকার গায়ে পেরেক ঠুকছেন। প্রখর রোদ ও বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে বর্ষার আগাম প্রস্তুতিতে ব্যস্ত আছেন নৌকা তৈরিতে। পাশাপাশি বিক্রিও হচ্ছে ভালো। প্রকার ভেদে প্রতিটি নৌকা বিক্রি হচ্ছে ৭ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

ডিক্রিরচর ইউনিয়নের ভাঙ্গী ডাঙ্গীর মাহাতাব আলী বলেন, বর্ষা মৌসুমে নৌকা আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। নৌকা ছাড়া এক মুহূর্তও আমাদের চলে না। এ গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাওয়া, মাছ ধরা, গরুর ঘাষ কাটা, হাটবাজারে যাওয়া সবখানেই নৌকার দরকার হয়। সেজন্য নৌকা কিনলাম। গতবারের চেয়ে দাম একটু বেশি। তার পরেও কিনতে হয়েছে। 

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ফরিদপুরের ৫টি উপজেলাতে কম-বেশি বন্যাকবলিত হয়। এ জন্য আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। ইতোমধ্যেই জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুটি রেসকিউ বোট দেয়া হয়েছে। এছাড়া আমাদের যারা সাধারণ মানুষ আছেন, তারাও বর্ষার সময় চলাচলের জন্য অন্যতম প্রধান মাধ্যম নৌকা তৈরি ও সংস্কার করছেন। আমরা বন্যা মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।
 

 ফরিদপুর প্রতিদিন
 ফরিদপুর প্রতিদিন
এই বিভাগের আরো খবর