শনিবার   ০৮ অক্টোবর ২০২২   আশ্বিন ২২ ১৪২৯   ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

 ফরিদপুর প্রতিদিন
সর্বশেষ:
দেশের পাহাড়ী এলাকায় কফি চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে শুরু হয়েছে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল সাজেকে পর্যটকের ধুম, কোনো রুম ফাঁকা নেই ভোক্তা পর্যায়ে এখনই বাড়ছে না বিদ্যুতের দাম দলে যাগ দিয়েছেন সাকিব, নিউজিল্যান্ডে পরিপূর্ণ টিম ফরিদপুরে সরকারি বরাদ্দের ২০০ বস্তা চাল জব্দ আলফাডাঙ্গায় ড্রাগন ও লেবু গাছের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা!
৫৮

নদী ‌ভাঙন ঝুঁকিতে ফরিদপুরের ‘স্বপ্ননগর’ আশ্রয়ণ প্রকল্প 

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২  

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় মধুমতি নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় হঠাৎ ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার দিকনগর খেয়াঘাটের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে অস্থায়ী রক্ষা বাঁধের সাড়ে ৭০০ মিটার নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।


ফলে ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছে আলফাডাঙ্গার আশ্রয়ণ প্রকল্প ‘স্বপ্ননগর’।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আলফাডাঙ্গার গোপালপুর ইউনিয়নের চরকাতলাসুর গ্রামে ৫৩ একর জমির ওপর নগরের সব সুবিধা নিয়ে ‘স্বপ্ননগর’ নামে আবাসন এলাকা নির্মাণ করা হয়। যাদের জমি নেই, ঘর নেই এমন ২৮৬টি পরিবারের ঠাঁই হয়েছে স্বপ্ননগরে। ঘর নির্মাণের পাশাপাশি তৈরি করা হয়েছে মসজিদ, মন্দির, বিদ্যালয়, হাট, খেলার মাঠ, ঈদগাহ, কমিউনিটি ক্লিনিক, শিশুপার্ক, ইকোপার্ক ও সামাজিক বনায়ন। এছাড়া উপকারভোগীদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। জমিসহ ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে ২০২০ সালের ১২ অক্টোবর।

এদিকে আশ্রয়ণ প্রকল্পটি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৯০০ মিটার অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে। কিন্তু হঠাৎ করে মধুমতি নদীতে পানি বাড়ায় বাঁধের প্রায় সাড়ে ৭০০ মিটার নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রায় ৩০টি ঘর ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘অস্থায়ী নদী রক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা দুশ্চিন্তায় পড়েছে। ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই। ’

দিকনগর বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ‘মধুমতিতে পানি বেড়েছে। কয়েকদিনে অস্থায়ী বাঁধের প্রায় সাড়ে ৭০০ মিটার নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। দুই বছর যেতে না যেতেই রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেওয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের বাসিন্দারা এখন ঘর হারানোর আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন। ’

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম ও হুরি বেগম বলেন, ‘আমরা মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে স্বপ্ননগরে একটু আশ্রয় পেয়েছিলাম। এখন এ আশ্রয় হারালে আমাদের আবার পথে পথেই থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের ঘর দিয়েছেন, সেই ঘরে শান্তিতে বসবাস করছি। নদীতে বিলীন হয়ে গেলে আমরা কোথায় যাবো? তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। ’

গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইনামুল হাসান বলেন, চলতি বছরের কয়েক মাস আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক অস্থায়ী বাঁধ এলাকায় বালু ভর্তি বস্তা ফেলা হয়। গত কয়েকদিনে মধুমতি নদীতে পানি বেড়েছে। ফলে ভাঙনও বাড়ছে। চর কাতলাসুর স্বপ্ননগর আশ্রয়ণ প্রকল্পের সামনের অংশের মধুমতি নদী অস্থায়ী রক্ষা বাঁধের বেশিরভাগ অংশ নদীতে চলে গেছে। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই। ’

আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রফিকুল হক বলেন, ‘অস্থায়ী বাঁধটি দুই-আড়াই মাস আগে মেরামত করা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ মধুমতী নদীতে পানি বাড়ায় ভাঙন বেড়েছে। সরেজমিনে আমি ওই এলাকায় গিয়েছিলাম। সেখানে অস্থায়ী বাঁধের প্রায় ৮০ ভাগই ভেঙে গেছে। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানান প্রশাসনের এ কর্মকর্তা। ’

এ বিষয়ে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম সাহা বলেন, মে মাসে আপদকালীন (ইমারজেন্সি) প্রকল্পের আওতায় মধুমতি নদীর অস্থায়ী রক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজ করা হয়। যা গত জুন মাসে শেষ হয়। নদীতে ফের পানি বাড়ায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে, ভাঙন এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনে লোক পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দ্রুত কাজ করা হবে।

 ফরিদপুর প্রতিদিন
 ফরিদপুর প্রতিদিন
এই বিভাগের আরো খবর