শুক্রবার   ৩০ জুলাই ২০২১   শ্রাবণ ১৪ ১৪২৮   ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

 ফরিদপুর প্রতিদিন
সর্বশেষ:
দখলদার উচ্ছেদ, এবার দেশের সকল নদীতে নামফলক বসাবে সরকার টিকা নেয়ার সর্বনিম্ন বয়স কমিয়ে ২৫ বছর নির্ধারণ সড়কে আন্ডারপাস, ওভারপাস ও ইউলুপ নির্মাণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর প্রথমবারেই আড়াই কোটি টাকা ভ্যাট দিলো ফেসবুক
৭১

দ্বিতীয় তিস্তা সেতু দৃশ্যমান, গাইবান্ধা-কুড়িগ্রামবাসীর স্বপ্নপূরণ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ জুলাই ২০২১  

উন্নয়নের মহাযাত্রায় অদম্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এক এক করে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে দেশের বড় বড় মেগা প্রকল্প। দেশজুড়ে চলমান উন্নয়ন যজ্ঞের ছোঁয়া লেগেছে উত্তরবঙ্গেও। স্বপ্নপূরণ হতে চলেছে গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের বাসিন্দাদের।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও পরিকল্পনা অনুযায়ী এগুচ্ছে গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামবাসীর স্বপ্নের দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর কাজ। সেতুটির ২৯০টি পাইলের মধ্যে ১০১টি পাইল বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা জানিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের বাসিন্দারা ছাড়াও কয়েক জেলার মানুষের ‘স্বপ্ন’ ও দীর্ঘদিনের ‘প্রাণের দাবি’ ছিল তিস্তার দ্বিতীয় সেতু। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের প্রাণের দাবি মেনে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। 

২০১৪ সালের ২৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ঘাট থেকে তিস্তা নদীর ওপর দিয়ে কুড়িগ্রামের চিলমারী পর্যন্ত ১ হাজার ৪৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের এ সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে।

এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এই বরাদ্দের ২৭৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা মূল সেতু নির্মাণে ব্যয় হবে। আর সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া নদীশাসনে ৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ও জমি অধিগ্রহণে ব্যয় হবে ৬ কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সেতু হলে ঢাকা-কুড়িগ্রাম ও ঢাকা-গাইবান্ধার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে। সড়কপথের দূরত্ব কমে আসবে প্রায় ১০০ কিলোমিটার। যোগাযোগের পথ সুগম হবে গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুরের মানুষের। একই সঙ্গে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও করতোয়া নদীপারের হাজারও মানুষের জীবিকার পথ সুগম হবে। 

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মুনছুর আহম্মেদ জানান, সেতুটিতে ২৯০টি পাইল ও ৩০টি পিলার স্থাপন হবে। এর মধ্যে ১০১টি পাইল বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। আগামী মাসেই পিলারের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সেতুর উভয় পাশে নদীশাসন হবে ৩ দশমিক ১৫ কিলোমিটার ও সড়কের নির্মাণকাজ হবে ৮৬ কিলোমিটার।

সেতুটির নির্মাণকাজের সঙ্গে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে অ্যাপ্রোস রোডের কাজও। এ ছাড়া একটি অ্যাপার্টমেন্টের কাজও শেষ করেছে বাস্তবায়নকারী এলজিইডি কর্তৃপক্ষ।

মুনছুর আহমেদ বলেন, ‘সেতুটির দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৫০০ মিটারের কম হওয়ায় এটি বাস্তবায়ন করছে এলজিইডি। এটি এলজিইডির একটি বিরাট অর্জন। আমরা আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘‘গাইবান্ধা জেলা শহরকে আমরা ‘পকেট’ শহর বলে থাকি। এখন আর আমরা এটাকে পকেট শহর বলতে পারব না। কেননা, সেতুটি কাজ শেষ হলে গাইবান্ধার সঙ্গে অন্য জেলা-উপজেলার নতুন সংযোগ স্থাপন হবে।’’

 ফরিদপুর প্রতিদিন
 ফরিদপুর প্রতিদিন
এই বিভাগের আরো খবর