রোববার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১   আশ্বিন ১১ ১৪২৮   ১৮ সফর ১৪৪৩

 ফরিদপুর প্রতিদিন
সর্বশেষ:
২০২৪ সালের মধ্যে চালু হবে দেশের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক পেলেন দেশের ১৪০ পুলিশ সদস্য বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে জাতিসংঘের মঞ্চে ‘বাংলা ভাষা’বেজে ওঠার দিন আজ জাহাজ রপ্তানিতে সুদিন আসছে বাংলাদেশের
২১

দেশের উত্তরাঞ্চল হতে যাচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কেন্দ্রস্থল

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১  

দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জোর দেয়া হচ্ছে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর। আর এ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধানতম কেন্দ্রস্থল হিসেবে ভাবা হচ্ছে দেশের উত্তরাঞ্চলকে। 

এ নিয়ে এরই মধ্যে নতুন এক রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। 

২০৪১ সাল নাগাদ সৌরশক্তি ব্যবহার করে ৩০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের পরিকল্পিত সোলার হাবগুলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার মেগাওয়াট। এজন্য প্রস্তাবিত রোডম্যাপে ১৩টি জেলাকে সোলার হাব হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। জেলাগুলোর চরাঞ্চলে নির্মাণ করা হবে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র।

এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলোয় স্থাপিত সোলার হাব থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। সব মিলিয়ে উত্তরাঞ্চলের ছয়টি জেলায় সোলার হাবগুলো গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মধ্যে পাবনা জেলায় ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট, গাইবান্ধায় ১ হাজার ৩০০, সিরাজগঞ্জে ১ হাজার ২০০, রংপুর ও নিলফামারীতে ৬০০ ও কুড়িগ্রামে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য হাতে নেয়া হয়েছে। এর বাইরে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই, জামালপুর, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ী, ময়মনসিংহ ও পটুয়াখালী জেলায় বাকি ৬ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

এ বিষয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন বলেন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে আমরা সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে একটি রোডম্যাপ করেছি। এতদিন আমাদের জানা ছিল না আসলে সৌর থেকে কী পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। তবে এখন একটি প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। এটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন পেলে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে কাজ শুরু হবে।

বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে এক দশক আগে পাওয়ার সিস্টেম মাস্টারপ্ল্যান-২০১০ প্রণয়ন করে সরকার। এরপর ২০১৬ সালে আরো একটি মহাপরিকল্পনা করা হয়। সে পরিকল্পনায় মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের কথা বলা হয়। কিন্তু তা ৩ শতাংশের বেশি করা যায়নি।

সোলার হাবের বাইরে অন্য আরো কিছু মাধ্যম থেকে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সোলার ফটোভলটাইক (পিভি) থেকে ২ হাজার মেগাওয়াট, বেসরকারিভাবে স্থাপিত সোলার প্যানেল থেকে ২ হাজার ২০০, রুফটপ সোলার থেকে ১২ হাজার, সোলার পাম্প থেকে ১ হাজার ২০০, সোলার চার্জিং স্টেশন থেকে ২২৬, সোলার টেলিকম টাওয়ার ও সোলার স্ট্রিট লাইট থেকে ৮৫, সোলার হোম সিস্টেম থেকে ২৬০, সোলার মিনি গ্রিড থেকে ১৬ ও অন্যান্য উৎস থেকে আরো ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সৌরশক্তি থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ৯ হাজার ৭৪৩ মেগাওয়াট ও পরের এক দশকে অর্থাৎ ২০৩১-৪১ সালের মধ্যে আরো ১৯ হাজার ৭১১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিবেশী দেশ ভারত এরই মধ্যে সৌরশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিক থেকে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। বিশ্বব্যাপী পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশটি জ্বালানি খাতে রূপান্তর ঘটিয়েছে। দেশটি এখন সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বৈশ্বিক পর্যায়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। মোট নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতার মধ্যে ৫০ গিগাওয়াটই আসছে সৌরশক্তি থেকে।

অন্যদিকে বাংলাদেশে গত এক দশকে সৌরবিদ্যুৎ খাতের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬৬ মেগাওয়াটে। এর মধ্যে সৌরশক্তি থেকে ৫৩২ মেগাওয়াট, পানি থেকে ২৩০, বাতাস থেকে ২ দশমিক ৯ ও বায়োগ্যাস থেকে দশমিক ৬৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে।

 ফরিদপুর প্রতিদিন
 ফরিদপুর প্রতিদিন
এই বিভাগের আরো খবর