শুক্রবার   ৩০ অক্টোবর ২০২০   কার্তিক ১৫ ১৪২৭   ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

 ফরিদপুর প্রতিদিন
সর্বশেষ:
‘আগামী কয়েকদিন ইন্টারনেটের গতি কিছুটা ধীর হতে পারে’ সব সরকারি ওয়েবসাইট হালনাগাদ রাখার নির্দেশ সুদের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ, স্ত্রীকে ঋণদাতার হাতে দিলেন স্বামী
৪৮

জিডিপিতে ভারতকে ছাড়ালো বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক:

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২০  

২০২০ সালে মাথাপিছু জিডিপির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশ ভারতকে পেছনে ফেলেছে। শুধু তাই নয়, সার্কভূক্ত আট দেশের উপরেই থাকছে বাংলাদেশ। দেশের এমন অভাবনীয় সাফল্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ওয়াল্ড ইকোনমিক আউটলুক (ডব্লিউইও) রিপোর্টে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ডলারের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ২০২০ সালে এক হাজার ৮৮৮ ডলার হয়ে ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ১০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে এক হাজার ৮৭৭ ডলার হবে বলে মনে করা হচ্ছে, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

উভয় দেশের জিডিপির পরিসংখ্যান বর্তমানে সমান। রিপোর্ট অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পাকিস্তান ও নেপালের মাথাপিছু জিডিপির তুলনায় এগিয়ে থাকবে ভারত। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ ভারতের চেয়ে এগিয়ে থাকবে।

ডব্লিউইও প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার পরে দক্ষিণ এশিয়ায় করোনা মহামারিতে ভারতীয় অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, দেশটির মাথাপিছু জিডিপি বর্তমান পঞ্জিকা বছরে ৪ শতাংশ সংকুচিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে নেপাল ও ভুটান এ বছর তাদের অর্থনীতি বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আইএমএফ আগামী বছরে ভারতে ব্যাপক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পূর্বাভাস দিয়েছে।

ডলারের বিপরীতে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ২০২১ সালে ৮ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে, এটি বাংলাদেশের প্রত্যাশিত ৫ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির বিপরীতে। পরের বছর ভারতের মাথাপিছু জিডিপি দুই হাজার ৩০ ডলারে উন্নীত হবে, যেখানে বাংলাদেশের এক হাজার ৯৯০ ডলার হওয়ার সম্ভাবনা।

পাঁচ বছর আগেও ভারতের মাথাপিছু জিডিপি বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি ছিল। গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি বৃদ্ধি পেয়েছে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৯ দশমিক ১ শতাংশ, আর এই সময়ে ভারতে হয়েছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ।

এদিকে, ২০২০ সালে যে দেশগুলোতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হবে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- গায়ানা, দক্ষিণ সুদান, বাংলাদেশ, চীন, লাওস, মিসর, মিয়ানমার, রুয়ান্ডা, বতসোয়ানা, ভিয়েতনাম ইত্যাদি। বাকি সব দেশের জিডিপি সংকুচিত হবে, প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হবে। যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, জাপানের মতো বড় অর্থনীতির দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হবে বলে জানিয়েছে আইএমএফ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশে দ্রুত বর্ধনশীল রফতনি খাত এবং সঞ্চয় ও বিনিয়োগের হার অবিচ্ছিন্নভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের রফতনি স্থবির হয়েছে এবং সঞ্চয় ও বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে।

উল্লেখ্য, মাথাপিছু জিডিপি হলো দেশগুলোর সমৃদ্ধি নির্ধারণের একটি বিশ্বব্যাপী পরিমাপ এবং একটি দেশের সমৃদ্ধি বিশ্লেষণে অর্থনীতিবিদরা জিডিপির পাশাপাশি মাথাপিছু আয়ের প্রবৃদ্ধি ব্যবহার করেন। একটি দেশের জিডিপি দেশটির মোট জনসংখ্যার হিসাব দিয়ে ভাগ করে এটি গণনা করা হয়।

 ফরিদপুর প্রতিদিন
 ফরিদপুর প্রতিদিন
এই বিভাগের আরো খবর