বৃহস্পতিবার   ০৪ মার্চ ২০২১   ফাল্গুন ১৯ ১৪২৭   ১৯ রজব ১৪৪২

 ফরিদপুর প্রতিদিন
সর্বশেষ:
জর্ডানের রাজার সঙ্গে গোপন বৈঠক ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দৌলতদিয়ার পদ্মায় ধরা পড়লো ৩০ কেজির বাগাইড় মাগুরায় মেহেগনি বাগান থেকে জ্বলন্ত লাশ উদ্ধার বিদ্যুৎ পেল ফরিদপুরের ১৯৭ পরিবার
৮৯

ইসলামে সুদের লেনদেন হারাম

প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

সুদ খাওয়া কবিরা গুনাহ। নামে-বেনামে যেভাবেই হোক সুদের পরিণাম ভয়ংকর। তাই তো আল্লাহ রব্বুল আলামিন সুদকে হারাম করেছেন এবং সুদি কারবার চালিয়ে যাওয়াকে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত থাকার সমতুল্য অপরাধ বলে ঘোষণা করেছেন। খুব ভালোভাবে স্মরণ রাখতে হবে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের দৃষ্টিতে সুদ গ্রহীতা যেমন অভিশপ্ত তেমনিভাবে সুদদাতা, সুদের রক্ষক, সুদের সাক্ষী ও সুদের সহযোগিতাকারী সবাই আল্লাহ ও তাঁর রসুলের দৃষ্টিতে অভিশপ্ত।

সুদ ইসলামে চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ। শরিয়তের পরিভাষায় সুদ নেওয়া দেওয়া মারাত্মক অপরাধ। সুদ যেহেতু শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হয় সেহেতু সুদ দেওয়া নেওয়ার বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআন এবং হাদিসে কঠোর হুঁশিয়ার করা হয়েছে। সুরা বাকারার ২৭৫ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা সুদ খায় তারা সেই ব্যক্তির মতো দাঁড়াবে যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা পাগল করে। এ এজন্য যে তারা বলে, কেনাবেচা তো সুদের মতো। অথচ আল্লাহ কেনাবেচাকে হালাল ও সুদকে হারাম করেছেন।’ সুদকে জঘন্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে হাদিসে। একে শিরকের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সুদের গুনাহ সত্তরের অধিক আর শিরক তার সমান।’ মুসনাদে বাজ্জার, ইবনে মাজাহ। আরেক হাদিসে রসুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সুদের মধ্যে তিয়াত্তর প্রকারের পাপ রয়েছে। এর সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ের পাপ হলো নিজের মায়ের সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া।’ মুসতাদরাকে হাকেম। উপরোক্ত দুটি হাদিসে সুদ যে কত পাপের তা চিহ্নিত করা হয়েছে। সবচেয়ে ভয়ংকর পাপের কাজ হলো আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা। সুদকে এর সঙ্গে তুলনা করে আল্লাহর কাছে এটি যে কতটা অগ্রহণযোগ্য তা চিহ্নিত করা হয়েছে। মায়ের সঙ্গে জিনা জঘন্য অপরাধের একটি। সুদ দেওয়া নেওয়াকে তার সঙ্গে তুলনা করে এ গর্হিত কাজ থেকে মুমিনদের দূরে থাকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সুদের পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করে হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যখন কোনো এলাকায় সুদ ও জিনা ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয় তখন ওই এলাকার অধিবাসীরা আল্লাহর আজাব নিজের ওপর টেনে নিয়ে আসে।’ আল মুসতাদরাক। বর্তমানে দুনিয়ায় সুদের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে এবং তা সবকিছু গ্রাস করতে চলেছে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কিয়ামতের আগে এমন একটি সময় আসবে কোনো ব্যক্তিই সুদ খাওয়া থেকে বেঁচে থাকবে না।

 ফরিদপুর প্রতিদিন
 ফরিদপুর প্রতিদিন
এই বিভাগের আরো খবর