বৃহস্পতিবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২০   অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৭   ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

 ফরিদপুর প্রতিদিন
সর্বশেষ:
এবার টেন্ডুলকারকেও ছাড়িয়ে গেলেন কোহলি পদ্মা সেতুতে একসঙ্গে সড়ক ও রেলপথ উদ্বোধন ফরিদপুরে পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের চেক বিতরণ
৮৭

আলফাডাঙ্গায় ভগ্নিপতির হামলায় শ্যালক নিহত

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২০  

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় বোনের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে ভগ্নিপতির হামলায় মোস্তফা মোল্লা নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে পাচুড়িয়া ইউনিয়নের চরপাচুড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মোস্তফা মোল্লা পাচুড়িয়া ইউনিয়নের কাশেম মোল্লার ছেলে এবং ঘাতক ভগ্নিপতি রবিউল মৃধা একই ইউনিয়নের চরপাচুড়িয়া গ্রামের ইদ্রিস মৃধার ছেলে।

এলাকাবাসীরা জানান, পাচুড়িয়া ইউনিয়নের কাশেম মোল্লার মেয়ে ঝর্না বেগমের বিয়ে হয় একই ইউনিয়নের চরপাচুড়িয়া গ্রামের ইদ্রিস মৃধার ছেলে রবিউল মৃধার সাথে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী রবিউল যৌতুকের জন্য স্ত্রী ঝর্নাকে মারধর ও নির্যাতন করতো। মঙ্গলবার রাতে পুনরায় স্ত্রীকে রবিউল বেধড়ক মারধর করলে; ভাই মোস্তফা মোল্লাসহ বাবার বাড়ির লোকজন বোনের বাড়ি চরপাচুড়িয়া গিয়ে প্রতিবাদ ও রবিউলকে শাসন করে। 

এ সময় রবিউল ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীর বড়ভাই মোস্তফাসহ সকলের উপর হামলা চালায়। হামলার সময় অন্যরা পালিয়ে গেলেও মোস্তফাকে আটকিয়ে গাছের সাথে বেঁধে বেধড়ক মারপিট করা হয়। এতে মোস্তফা মারাত্বক জখম হয়। জখম অবস্থায় তাকে প্রথমে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিলে মোস্তফার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। মোস্তফার শারীরিক অবস্থা আরো খারাপ হওয়ায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে তাকে ওই রাতেই ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে পাচুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম মিজানুর রহমান জানান, আমি ব্যবসায়িক কাজে ঢাকায় আছি। তবে এলাকা থেকে শুনেছি মেয়েটিকে বিয়ের পর থেকেই স্বামী রবিউল মারধর করতো। মঙ্গলবার রাতে ঝর্নার ভাইয়েরা বোনের মারধরের প্রতিবাদ করতে গেলে বড়ভাই মোস্তফাকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন করার পর তিনি হাসপাতালে মারা গেছে।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করীম জানান, খবর পাওয়ার পর সরেজমিন পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আমি ফরিদপুর মিটিংয়ে আছি। এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। তদন্ত পূর্বক পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলার্থে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 ফরিদপুর প্রতিদিন
 ফরিদপুর প্রতিদিন
এই বিভাগের আরো খবর