মঙ্গলবার   ১৮ মে ২০২১   জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪২৮   ০৭ শাওয়াল ১৪৪২

 ফরিদপুর প্রতিদিন
সর্বশেষ:
করোনায় বাড়ল মৃত্যু ও শনাক্ত লকডাউনের বিষয়ে ৭ দিন পর সিদ্ধান্ত দৌলতদিয়ায় ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ, গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া ফরিদপুরে প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন
৫৭

অদম্য মেধাবীর পাশে আব্দুর রহমান

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২১  

নীলফামারীর অদম্য মেধাবী ভূপেন্দ্র অধিকারীর মেডিকেলে পড়ার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) বিকালে এক ভিডিও কলের মাধ্যমে ভূপেন্দ্রর মেডিকেলে পড়াশোনার যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণের কথা জানান আব্দুর রহমান।

জানা গেছে, চলতি বছর এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে বাদাম বিক্রেতার ছেলে ভুপেন্দ্র অধিকারী। কিন্তু অর্থাভাবে তার মেডিকেল কলেজে ভর্তিতে দেখা দিয়েছিল চরম অনিশ্চয়তা। মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার মতো কোনো টাকা-পয়সা নেই তার পরিবারের।

খবরটি গণমাধ্যম ও স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাদের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমানের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ভুপেন্দ্রের মেডিকেলে পড়াশোনার যাবতীয় দায়িত্ব নিয়েছেন।

ভূপেন্দ্র অধিকারী নীলফামারীরর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের দিঘির পাড় গ্রামের মতিলাল অধিকারী ও বাসন্তী অধিকারী দম্পতির সাত সন্তানের মধ্যে পঞ্চম সন্তান। ভূপেন্দ্র ২০২০-২১ এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ) ১০০ নম্বরের মধ্যে ৭০ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। 

জানা যায়, ভূপেন্দ্রর বাবা একজন বাদাম বিক্রেতা, মা একজন গৃহিণী। এতদিন বাদাম বিক্রি করেই ভূপেন্দ্রর পড়াশোনার খরচ চালিয়েছিলেন তিনি। বয়স হয়ে যাওয়ায় আগের মতো বাদামের ব্যবসা করার মতো সামর্থও নেই তার।

ভূপেন্দ্র বলেন, তিন ভাই ও চার বোন মিলে আমরা মোট সাত ভাইবোন। ভাইদের মধ্যে আমি সবচেয়ে ছোট। বড় ভাইয়েরা বিবাহিত।। তারা তাদের পরিবার নিয়ে নিজেরাই হিমশিম খাচ্ছেন। তারা ঢাকা ও বগুড়ায় রিকশা চালান। অন্যদিকে আমার তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে আর এক বোন আছে তার দায়িত্বও বাবার ওপর।
 
হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান ভূপেন্দ্র ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ায় ভীষণ আগ্রহী। প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি বাড়ির পাশের ডালিয়া চাপানী উচ্চ বিদ্যালয়় থেকে ২০১৮ সালে এসএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে রংপুর সরকারি কলেজ থেকে ২০২০ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হন। এবারের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বর্তমানে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পান তিনি। কিন্তু অদম্য মেধাবী ভূপেন্দ্র রায় মেডিকেলে  ভর্তি সুযোগ পেয়েও চরম হতাশ হয়ে পড়েন।

ভূপেন্দ্রর বাবা মতিলাল অধিকারী জানান, ছেলেটাকে ঠিকভাবে লেখাপড়া খরচ দিতে পারিনি। তারপরও সে নিজের ইচ্ছা শক্তিতে ও আগ্রহে কঠিন পরিশ্রম করে লেখাপড়া অব্যাহত রেখেছে। এখন ছেলে মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে অনেক টাকা-পয়সা লাগবে। এত টাকা কীভাবে যোগাড় করব তা ভেবেচিন্তে কোনো কূল-কিনারা পাচ্ছিলাম না, ঠিক তখনি আওয়ামী লীগের নেতা আবদুর রহমান এগিয়ে এসেছেন। 

তিনি আমাকে ফোন করে বলেন, ‘আপনাদের অনেক কষ্টের বিনিময়ে আপনাদের ছেলে মেডিকেল চান্স পেয়েছে। এজন্য আপনাদের অভিনন্দন এবং শ্রদ্ধা জানাই। আপনারা ভাববেন না, ওর মেডিকেলে পড়াশোনার যাবতীয় দায়িত্ব জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আমি নিলাম। শুধু তাকে নিয়মিত পড়াশোনাটা করতে বলবেন।'

এ সময় তিনি আমার স্ত্রী বাসন্তী অধিকারীর সাথেও সাথেও কথা বলেছেন।

এ বিষয়ে ভুপেন্দ্রে অধিকারী জানান, আমার পড়াশোনার যাবতীয় দায়িত্ব নেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের নেতা আবদুর রহমানের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। তিনি আমাকে বলেছেন, ‘তুমি কোনো কিছু নিয়ে ভাববে না। যখন যা লাগবে তখন তোমার জন্য তা ব্যবস্থা করা হবে। নিয়মিত পড়াশোনা করে মা -বাবার স্বপ্ন পূরণের জন্য তোমাকে এগিয়ে যেতে হবে।’ 

এ সময় তিনি তার সাথে যোগাযোগের জন্য আমাকে তার ব্যক্তিগত ফোন নাম্বারও দিয়েছেন।

 ফরিদপুর প্রতিদিন
 ফরিদপুর প্রতিদিন
এই বিভাগের আরো খবর